মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বলেছিলেন ডিসেম্বরের মধ্যেই পৌর নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। এবার ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট শেষ করতে দফায় দফায় বসছে বৈঠক। আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পৌর নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া রাজ্যের পৌরসভাগুলিতে দ্রুত ভোট প্রক্রিয়া শেষ করতে তৎপর হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
বুধবার রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকেছে কমিশন। বৈঠকের পর ভোটের দিনক্ষণ-সহ অন্যান্য প্রস্তুতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ের পৌরভোটে উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভার সঙ্গে ধূপগুড়ি পৌরসভাকেও রাখা হতে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় ধূপগুড়ি, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও ঝাড়গ্রামের নাম রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও বালি পৌরসভাতেও প্রথম দফায় ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ধূপগুড়ি পৌরসভার শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালের আগস্টে। নির্বাচিত পৌরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালে। এরপর তৎকালীন রাজ্য সরকার নির্বাচিত বোর্ডের পরিবর্তে চার সদস্যের প্রশাসক মণ্ডলীর মাধ্যমে পৌরসভা পরিচালিত করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেই প্রশাসক মণ্ডলী ভেঙে দিয়ে ধূপগুড়ির মহকুমা শাসকের হাতে পৌরসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২২ সালে মেয়াদ শেষের আগে নির্বাচন কমিশন ধূপগুড়ি পৌরসভার আসন বিন্যাসের খসড়া প্রকাশ করেছিল। তবে নির্বাচন না হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় পৌর পরিষেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা ও জবাবদিহির অভাব তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ নাগরিকদের একাংশের।
এবার ১ জুলাই প্রকাশিত ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করে নির্বাচন হওয়ার কথা। এরই মধ্যে ধূপগুড়ি পৌরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজও এগিয়েছে। খসড়া বিন্যাস অনুযায়ী ১৬টি থেকে ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ২০টি হতে পারে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ড বিন্যাসের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তবে পৌর এলাকার সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মূল ১৬টি ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করেই আরও চারটি ওয়ার্ড তৈরি করা হচ্ছে।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পরই পৌর নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দীর্ঘদিন নির্বাচিত পৌরবোর্ড না থাকায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। দ্রুত নির্বাচন করে নির্বাচিত পৌরবোর্ড গঠন এবং নাগরিক পরিষেবায় স্বাভাবিকতা ফেরানোর দাবি উঠেছে।
সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ''এসআইআর-এ যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, অথচ বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ এখনও অন্ধকারে রয়েছেন। কারা ভোটার তালিকায় থাকছেন, আর কারা বাদ পড়ছেন-তা অবিলম্বে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।''
তিনি বলেন, ''ধূপগুড়ি পৌরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা ১৬টি থাকবে, না ২০টি হবে এবং সংরক্ষণের রোস্টার কী হবে-প্রশাসনকে দ্রুত তা নির্দিষ্ট করতে হবে। ২০২২ সালের পৌর নির্বাচনে রোস্টার তৈরিতে ব্যাপক ত্রুটি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল। এবার যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে আইন ও নিয়ম মেনে সঠিকভাবে রোস্টার তৈরি করতে হবে।''

