Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Paddy                                                                                    ৯ জেলার কৃষকের ধান  কিনবেই না সরকার

Paddy ৯ জেলার কৃষকের ধান কিনবেই না সরকার

রাজ্যের ৯ জেলা থেকে ধান সংগ্রহ করবে না রাজ্যের বিজেপি সরকার। আপাতত রবি মরশুমের জন্য এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও গত আর্থিক বছরের তুলনায় ৬০ভাগ কমানো হয়েছে। যে জেলাগুলিকে এবার রবি মরশুমে ধান সংগ্রহের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে সেগুলি হলো কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দুই দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর।

এই ৯টি জেলার কৃষকদের থেকে ধান সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সংক্রান্ত।
গত আর্থিক বছরে রবি মরশুমে রাজ্যে ৫লক্ষ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রা নামিয়ে আনা হয়েছে ২লক্ষ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ যে জেলাগুলি থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে, সেগুলিতে গতবারের থেকে কম ধান সংগ্রহ করা হবে। যেমন, গত আর্থিক বছরের রবি মরশুমে আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬হাজার মেট্রিক টন। এবার তা করা হয়েছে ২হাজার মেট্রিক টন। গত বছর রবি মরশুমে হুগলী থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৯,১৯৬ মেট্রিক টন। তা এবার কমিয়ে আনা হয়েছে ৩০হাজার মেট্রিক টনে। পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে গত বছরের রবি মরশুমে ৮৩হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এবার তা কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৫হাজার মেট্রিন টনে।
এই রবি মরশুমে সেন্ট্রাল পুলে কোনও ধান রাজ্যে সংগ্রহ করা হবে না। এই সিদ্ধান্তও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র স্টেট পুলে ধান সংগ্রহ হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনের জন্য সেন্ট্রাল পুলে ধান সংগ্রহের কাজ রাজ্যে বেনফেড, নাফেড, ওয়েস্ট বেঙ্গল এসেনসিয়াল কমোডিট সাপ্তাই কর্পোরেশন লিমিটেডের মতো সংস্থাগুলি করে। রাজ্যের সেন্ট্রালাইজড প্রকিওরমেন্ট সেন্টার(সিপিসি)গুলিতে যে ধান কেনা হয়, তারও একাংশ সেন্ট্রাল পুলের জন্য নেওয়া হয়। এবার সেন্ট্রাল পুলের জন্য ধান নেওয়া না হলেও এই সিপিসিগুলির মারফতই শুধু ধান কেনা হবে। রাজ্যে এমন ৩৩০টি ধান কেনার সিপিসি আছে। যে জেলাগুলি থেকে ধান কেনা হবেই না, স্বাভাবিকভাবেই সেই জেলার সিপিসিগুলি নিষ্ক্রিয় থাকবে। কৃষককে আগের মতোই নিজের খরচে ধান নিয়ে যেতে হবে সিপিসি'তে। প্রতিদিন ৩০জন কৃষক ধান বিক্রি করতে পারবেন। যাঁরা কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় আছেন, তাঁরা ১৫কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন এই মরশুমে। যদি জমির পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে সর্বোচ্চ ৯০কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন। যদিও পশ্চিমবঙ্গে ব্যক্তিগত জমির যা পরিমাণ তাতে কোনও কৃষকই ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান বিক্রি করতে পারবেন না। যাঁরা কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় নেই, তাঁরা বিক্রি করতে পারবেন ১০কুইন্টাল ধান। যদিও তার জন্য তাঁদের বিডিও-দের অনুমতি পেতে হবে।
রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে ২১টি গ্রামপ্রধান। সেই জেলাগুলির কৃষকদের থেকে সরকারের ধান সংগ্রহ হয় খরিফ এবং রবি মরশুমে। খরিফ মরশুমে সাধারণত ১নভেম্বর থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হয়। রবি মরশুমে শুরু হয় ১জুন থেকে। কৃষকদের থেকে ধান কেনার এই পদ্ধতি রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে চালু হয়। বামফ্রন্ট সরকার এই কাজে পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে যুক্ত করেছিল। মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এই ব্যবস্থা বদলে দেন। ফলে ফড়েদের দৌরাত্ম্য হয়। সিপিসিগুলিতে ধান বিক্রি করা কৃষকদের কাছে দুঃসাধ্য ছিল। কারণ, সেপিসি-ঘিরে ছিল ফড়েদের চক্র। নানা অছিলায় সেখানে ধান বিক্রি করতে যাওয়া কৃষকদের হেনস্তা করা হতো। মূলত সরকার নির্ধারিত দামের থেকে কমে যাতে কৃষক ফড়েদের ধান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন, তৃণমূল শাসনে সেই ফিকিরই তৈরি করা হয়েছিল।
এবার রাজ্যের কুইন্টাল প্রতি ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ২৩৬৯টাকা। আগামী ১জুন থেকে বিজেপি-শাসনে ধান বিক্রি শুরু হবে রবি মরশুমে। এই শাসনে কৃষকরা কী অবস্থায় পড়বেন, তা সময় বলবে। কিন্তু এই সংক্রান্ত সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, রাজ্যের ৯টি জেলার কৃষক রবি মরশুমে ধান বিক্রি করার সুযোগই পাবেন না। যে জেলাগুলিতে সরকার ধান কিনবে, সেখানেও সব কৃষক সিপিসি'তে ধান বিক্রি করতে পারবেন না।
অর্থাৎ বিরাট সংখ্যক কৃষক এবার ধানের অভাবী-বিক্রিতে বাধ্য হবেন বলেই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়াকে ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি। দুটি বাদ যাওয়া জেলার খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের আধিকারিক জানিয়েছেন একই কথা, ''২০ মে'র ওই নির্দেশিকা আমরা দেখেছি। কেন এই সিদ্ধান্ত আমরা জানি না। তবে আমরা আশা করছি আমাদের জেলাগুলিকেও আগামীদিনে ধান কেনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নাহলে কৃষকরা খুবই বিপদে পড়বেন।''

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ganashakti