Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Push Back                                                                                    পুশ ব্যাক সঙ্কট

Push Back পুশ ব্যাক সঙ্কট

তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে বিএসএফ'র মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে জোর করে ঠেলে পাঠিয়ে (পুশ ব্যাক) দেওয়া সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরকে ঘিরে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবি ভারত থেকে প্রকাশিত এই সব সংবাদের সত্যতা অস্বীকার করছে।

তবে বিএসএফ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাঁটা তারের গেট খুলে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিতে। তেমনি বিজিবি-ও কড়া নজরদারি করছে পুশ ব্যাক আটকাতে। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনায় বিএসএফ শতাধিক শিশু-মহিলা-পুরুষকে গভীর রাতে আলো নিভিয়ে বাংলাদেশের দিকে পুশ ব্যাক করার চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। তাতে দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। আর একটি ঘটনায় বিএসএফ ১২জনকে কাঁটা তারের বেড়ার বাইরে জোর করে ঠেলে দেবার পর তাদের ঠাঁই হয়েছে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে। খোলা আকাশের নিচে ফাঁকা মাঠে তারা কয়েকদিন ধরে পড়ে আছেন। না ভারতের দিকে, না বাংলাদেশের দিকে, কোনোদিকেই যাবার উপায় নেই। চরম মানবিক সঙ্কটে আছেন এই মানুষগুলি। দু'দেশের সীমান্ত বাহিনীর ফ্ল্যাগ মিটিঙের পরও কোনও মীমাংসা হয়নি। ফলে এরা কোথায় যাবেন, কি খাবেন, রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে কোথায় আশ্রয় নেবেন, অসুস্থ হলে কি করবেন কেউ জানে না।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে এই ধরনের মরজি মাফিক পুশ ব্যাক তারা মেনে নেবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে ফেরানোর নির্দিষ্ট কূটনৈতিক ব্যব্সা ও আন্তর্জাতিক আইন আছে। তাই যা করার আইন মেনেই করতে হবে। তাই বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। মাইকিং করে সতর্ক করছে।
ভারতের বর্তমান শাসক আরএসএস-বিজেপি'র অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা হলো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তারা এই ধারণা ভারতীয়দের মধ্যে বদ্ধমূল করার চেষ্টা করছে যে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভারত ছেয়ে গেছে। এরা ভারতে জমি, কাজ দখল করে সমস্যা তৈরি করছে। তেমনি মুসলিম জনসংখ্যা অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়ে হিন্দুদের সংখ্যালঘু করে দেবার ষড়যন্ত্র করছে। কোথাও কোনও তথ্য পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রচার হচ্ছে এ রাজ্যে নাকি এক থেকে দেড় কোটি অবৈধ বাংলাদেশি আছে। এমন প্রচারের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিক মুসলিমদেরও সন্দেহের চোখে দেখার অভ্যাস তৈরি করে দিচ্ছে। মুসলিমদের রোহিঙ্গা হিসাবে প্রচার করে গোটা মুসলিম সমাজকেই অপরাধী ও অবৈধ বাংলাদেশী বলে সাব্যস্ত করছে। অর্থাৎ বিদ্বেষকে চরমে পৌঁছে দিয়ে হিন্দুদের মেরুকরণই রাজনৈতিক লক্ষ্য যা বিজেপি-কে ক্ষমতায় আনতে বা রাখতে একমাত্র হাতিয়ার।
এই রাজনৈতিক প্রকল্পের অধীনেই বাকি সব জ্বলন্ত ইস্যু বর্জন করে হিন্দুত্ববাদী শাসক অনুপ্রবেশ নিয়েই হইচই চালিয়ে যাচ্ছে মানুষের নজর বিপথে ঠেলে দিতে। বেশিরভাগ মিডিয়া এই উদ্যোগী সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ জানিয়েছে ভারত বাংলাদেশী বলে যাদের চিহ্নিত করছে তাদের নাম নিয়ম অনুযায়ী পাঠাতে হবে। তারা যাচাই করে দেখার পর ফেরত নেওয়া হবে। এটাই আন্তর্জাতিক আইন। কিন্তু ডাবল ইঞ্জিনের সরকার আন্তর্জাতিক নিয়ম মানতে অস্বীকার করছে। তারা জোর করে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে পুশ ব্যাক করতে চাইছে। ফলে দু'দেশের মধ্যে নতুন করে তিক্ততা তৈরি হচ্ছে। যা দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ককে শত্রুতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। সেটা কোনও দেশের পক্ষেই ভালো হবে না।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ganashakti