নরেন্দ্র মোদির নামে এবার তৈরি হতে চলেছে আস্ত একটি মন্দির! সেখানে অন্যান্য দেব-দেবীর পাশাপাশি পুজো পাবেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী।
জীবিত কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এভাবে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে মন্দির গড়ার এই অভিনব ও বিতর্কিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বিহারে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই উদ্যোগ কোনও ব্যক্তিগত অনুরাগী গোষ্ঠীর নয়, বরং বিহার রাজ্য রূপান্তরকামী কল্যাণ বোর্ডের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করেছে।
২৯ জুলাই পর্ষদের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসতেই জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক মহলে এক নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে।
কিন্তু কেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেবতা জ্ঞান করে মন্দির নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত? বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সিং জানান, রূপান্তরকামী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে সমাজে যে অবহেলা ও অধিকারহীনতার শিকার ছিল, নরেন্দ্র মোদির আমলেই তার ইতি ঘটেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের 'ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট' কার্যকর হওয়ার পর তাঁদের আইনি স্বীকৃতি, প্রশাসনিক পরিচয় এবং সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে যে সম্মান ও মৌলিক অধিকার দিয়েছেন, তারই প্রতিদান হিসেবে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে তাঁর নামে এই মন্দির গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, এই মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় হবে না, বরং তাঁদের অধিকার অর্জনের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে।
অবশ্য প্রশাসনিক স্তরে এই প্রস্তাব গৃহীত হলেও এখনই যে মন্দিরের ইট গাঁথা শুরু হয়ে যাচ্ছে, তা নয়। বিহার সরকার বা বোর্ডের তরফ থেকে এখনও স্পষ্ট করা হয়নি যে ঠিক কোন জেলায় বা কত একর জমির ওপর এই মন্দির নির্মিত হবে। এমনকি প্রকল্পটির আনুমানিক বাজেট কত হতে পারে এবং সেই বিপুল অর্থের যোগান কোথা থেকে আসবে, তা নিয়েও কোনও খোলসা করা হয়নি। জানা গিয়েছে, আগামী মাসে এই প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের পরবর্তী প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য পেশ করা হতে পারে। অর্থাৎ পুরো বিষয়টি এখনো প্রাথমিক নকশা ও পরিকল্পনার স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদির নামে মন্দির গড়ার প্রচেষ্টা ভারতে এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৫ সালে গুজরাটের রাজকোটের কোঠারিয়া গ্রামে তাঁর অতি-অনুরাগীরা একটি মন্দির তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সে সময় বিষয়টিকে 'দুর্ভাগ্যজনক' আখ্যা দিয়ে খোদ মোদিই প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং মন্দির সংস্কৃতির বিরোধিতা করেছিলেন। তবে সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য হলো, এবার ঘটনাটি ঘটছে একটি সরকারি কল্যাণ পর্ষদের ফোরামে। জীবিত কোনও জনপ্রতিনিধিকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে মন্দির নির্মাণের এই ধারার যৌক্তিকতা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।
একদিকে রূপান্তরকামীদের অধিকার ও স্বীকৃতির বার্তা, অন্যদিকে এক ব্যক্তির ওপর দেবত্ব আরোপ, সব মিলিয়ে বিহারের এই প্রস্তাব ঘিরে চড়ছে আলোচনার পারদ।
-অঙ্কিতা পাল

