বঙ্গ রাজনীতিতে কি সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত? নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী উত্তপ্ত আবহে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত। একদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে তাঁর ক্রমবর্ধমান 'সৌজন্য', আর অন্যদিকে নিজের দলেরই তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল, সব মিলিয়ে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে কি তবে বড়সড় ভাঙনের সূত্রপাত হলো?
রাজনৈতিক মহলে এখন এটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।
সম্প্রতি সমাজমধ্যমে এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে ঋজু দত্ত জানিয়েছেন, প্রতিকূল সময়ে নিজের দলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেলেও, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সরাসরি তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। ঋজু দত্ত বলেন, "বিপদের মুহূর্তে বিজেপি নেতৃত্ব ফোনে সাড়া দিয়েছেন এবং সৌজন্য দেখিয়েছেন।"
তবে এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে রাজ্যে চলা সহিংসতা নিয়ে ঋজু দত্ত উল্টে দাবি করেছেন, যারা নির্বাচনের পর বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, অশান্তির নেপথ্যে মূলত তারাই রয়েছেন। যদিও বিজেপির সাথে এই মাখামাখির মাঝেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি মোটেই তৃণমূল ছাড়ছেন না।
ঋজু দত্তর এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি সাফ জানিয়েছে, তৃণমূলের তথাকথিত 'গুন্ডাবাহিনী' এখন বিজেপি কর্মীর ছদ্মবেশ ধরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে:"যারা ছদ্মবেশ ধারণ করবে বা আইন নিজের হাতে তুলে নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলায় অপরাধ ও প্রশাসনের একসাথে চলার যুগ শেষ হয়েছে।"
অন্যদিকে, সবচেয়ে চমকপ্রদ মোড় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে। ঋজু দত্ত-র এই সৌজন্য বিনিময় বা মন্তব্যকে দল বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু নেতার বক্তব্য তাঁদের একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত। দলের অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো বক্তব্যকে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
অর্থাৎ, ঋজু দত্ত-র ব্যক্তিগত সৌজন্য থেকে দল যে নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে নিচ্ছে, তা এই বিবৃতিতেই পরিষ্কার।
তৃণমূলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, দলের একজন পরিচিত মুখ যখন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন এবং বিরোধী দলের মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করছেন, তখন দল কেন তাঁর পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টে দায় ঝেড়ে ফেলছে? তবে কি পরাজয়ের গ্লানি আর অন্তর্কলহে জর্জরিত হয়ে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ধরা শুরু হলো?
বিজেপি যেখানে নতুন সরকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি তুলছে, সেখানে তৃণমূলের এই দূরত্ব বজায় রাখার রাজনীতি ঋজু দত্ত-র মতো নেতাদের কোন পথে চালিত করবে, সেটাই এখন দেখার।
- অঙ্কিতা পাল

