Dailyhunt
"বিজেপির দালালি করছে কমিশন!" ডেরেকের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

"বিজেপির দালালি করছে কমিশন!" ডেরেকের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে আগেই, কিন্তু তার মাঝেই আজ রাজধানী দিল্লিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে অভিযোগ জানাতে গিয়ে চরম অপমানের শিকার হতে হলো তৃণমূলের শীর্ষ প্রতিনিধিদের। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মাত্র কয়েক মিনিটের বৈঠকে অভিযোগ শোনা তো দূর অস্ত, খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তৃণমূল সাংসদদের ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ।

দিল্লির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বাংলার ভোটার তালিকা থেকে রাতারাতি প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া এবং রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে আজ দিল্লিতে কমিশনের দরবারে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ৪ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। ডেরেক ও'ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষদের দাবি ছিল, বেছে বেছে বাংলার ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ জানাতে গেলেই শুরু হয় নাটকীয় মোড়। তৃণমূলের দাবি, তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনার বদলে চরম দুর্ব্যবহার করা হয় তাঁদের সাথে।

বৈঠক শেষে বেরিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ডেরেক ও'ব্রায়েন। তিনি সাফ জানান, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের 'গেট লস্ট' বলে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। ডেরেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, "যদি ক্ষমতা থাকে তবে বৈঠকের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করুন।" অন্যদিকে, কমিশন সূত্রে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে, ডেরেক ও'ব্রায়েনই খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর চিৎকার করেছেন এবং তাঁকে 'চুপ করতে' বলেছেন। দুই পক্ষের এই অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে সরগরম এখন দিল্লির রাজপথ।

দিল্লিতে সাংসদদের এই চরম অপমানের খবর পৌঁছতেই নবান্ন থেকে কালীঘাট, সর্বত্রই সাজসাজ রব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বাংলার অধিকার নিয়ে আপসহীন। দিল্লি থেকে তাঁর প্রতিনিধিদের এভাবে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অপমানের ঘটনার পাল্টা হিসেবে তিনি কী পদক্ষেপ নেবেন, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই অপমানের ইস্যুকে সামনে রেখে মমতা এবার বড়সড় কোনো আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন।

সবমিলিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে যখন সকলের সমান অধিকার থাকার কথা, তখন দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচন সংস্থার অন্দরে সাংসদদের এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া সত্যিই নজিরবিহীন। এই সংঘাত কি শুধুই বাকযুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর আঁচ গিয়ে পড়বে ভোটের ব্যালট বক্সে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে দিল্লির এই ঘটনা যে আগামী কয়েকদিন বাংলার রাজনীতিতে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

- জ্যোতি সরকার

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Headlines Kolkata