চলতি বর্ষার মরশুমে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ফের একবার অক্ষরে অক্ষরে মিলেছে। বুধবার (৫ অগস্ট ২০২৬) ভোর থেকেই কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে অবিরাম বৃষ্টি। মৌসুমি অক্ষরেখা এবং উত্তরবঙ্গ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবতের জেরে পুরো রাজ্যেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় রয়েছে।
আজ ভোর ৫টা থেকে টানা বৃষ্টিতে ভিজেছে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। শহরের আকাশ সারাদিনই মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে প্রায় ১৪.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও আগামী ২৪ ঘণ্টা একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে। হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সেখানে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বেশি থাকবে। মৌসুমি অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবতের জোড়া প্রভাবে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার, এই পাঁচ পাহাড়ি ও সংলগ্ন জেলায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মালদহ এবং দুই দিনাজপুরেও দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বুধবার রাজ্যজুড়ে বর্ষার প্রবল দাপট বজায় থাকছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামা, নিচু অঞ্চলে জল জমে যাওয়া এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-জ্যোতি সরকার

