২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের ঠিক এক মাস আগে কলকাতার রাজনীতিতে মহানাটকীয় মোড়। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই, পুলিশ-প্রশাসনকে কার্যত চমকে দিয়ে হঠাৎ ধর্মতলার রাজপথে হাজির হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রেল স্টেশন থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদের যে প্রতিবাদ ইদানীং জোরালো হচ্ছে, আজ তার প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি নেতৃত্ব দিলেন খোদ নেত্রী।
গত ২রা জুন ওয়াই চ্যানেলে হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে ধর্নায় বসার পর, আজ আবারও রাজপথে নেমে সরাসরি অ্যাকশনে দেখা গেল তাঁকে।
দলীয় সূত্রের খবর, আজকের এই কর্মসূচি নিয়ে দলের অন্দরেও আগে থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট খবর ছিল না। সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় হঠাৎই দলের শীর্ষ নেতাদের নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট করে দেন, হকারদের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে তিনি নিজেই রাস্তায় নামছেন। তবে চেনা রুট এড়িয়ে, পুলিশ-প্রশাসনকে কার্যত ধোঁয়াশায় রেখে হঠাৎই তাঁর গাড়ি এসে থামে ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের সামনে। সেখান থেকেই শুরু হয় মমতার সেই চেনা মেজাজের পদযাত্রা।
টিপু সুলতান মসজিদ থেকে লেনিন মূর্তির পাদদেশ হয়ে মিছিল এগোতে থাকে রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারের দিকে। মিছিলের একেবারে ফ্রন্টলাইনে থেকে স্লোগান তোলেন মমতা। তাঁর একপাশে দেখা যায় তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনকে, অন্যপাশে দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সভাপতি রত্না শূর। এ ছাড়াও মিছিলে পা মেলাতে দেখা যায় কুণাল ঘোষের মতো দলের প্রথম সারির একাধিক নেতাকে। মিছিল থেকে লাগাতার সুর চড়ানো হয় 'বুলডোজার রাজনীতি'র বিরুদ্ধে।
সামনেই একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশ। তার আগে গরিব ও মেহনতি হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদতে নিজের জনভিত্তিকে আরও মজবুত করতে চাইলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে উচ্ছেদ নিয়ে প্রশাসনকে কড়া বার্তা, অন্যদিকে হকারদের রুটি-রুজির গ্যারান্টি, এক ঢিলে একাধিক পাখি মারলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এখন দেখার, নেত্রীর এই ঝোড়ো ইনিংসের পর উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে রেল বা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।
- অঙ্কিতা পাল

