২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। বঙ্গ রাজনীতির দুই মেগা সেন্টার- ভবানীপুর ও খড়গপুর সদর। শনিবার খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলকে কেন্দ্র করে কার্যত 'গেরুয়া সমুদ্র' দেখল আপামর জনতা। আর সেই মিছিলের মধ্যমণি হিসেবে দিলীপ ঘোষের পাশে দাঁড়িয়ে একতার বার্তা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার খড়গপুর শহরে দিলীপ ঘোষের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পা মেলালেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সুসজ্জিত প্রচার যানে দিলীপ ঘোষের ঠিক পাশেই দেখা গেল তাঁকে। সঙ্গে ছিলেন দিল্লির নেত্রী রেখা গুপ্তা ও রিঙ্কু মজুমদার। দীর্ঘ রাজনৈতিক গুঞ্জন সরিয়ে রেখে শুভেন্দু এদিন স্পষ্ট জানান, "আগামী ২৩ তারিখ নিজের কেন্দ্র খড়গপুরের ভোট শেষ করে দিলীপদা সরাসরি ভবানীপুরে আমার হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামবেন।"
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এই খড়গপুর সদর থেকেই প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। ২০১৯-এর সাংসদ হওয়ার পর উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রটি হাতছাড়া হলেও একুশের নির্বাচনে ফের এখানে জয় পায় গেরুয়া শিবির। এবার সেই জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ দিলীপ ঘোষের কাছে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র পেশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক ঐতিহাসিক হুঙ্কার দিয়েছেন। শাহের দাবি, "বঙ্গ জয়ের শর্টকাট হলো ভবানীপুর। এখানে জিতলেই বিজেপি গোটা বাংলায় জয়লাভ করবে।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর ও খড়গপুর, এই দুই কেন্দ্রের লড়াইয়েই লুকিয়ে আছে ২০২৬-এর ভাগ্য। একদিকে শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে থাবা বসাতে চাইছেন, অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ নিজের পুরনো দুর্গ রক্ষা করতে মরিয়া। এখন দেখার, এই হাইভোল্টেজ প্রচার ভোটের বাক্সে কতখানি প্রতিফলন ঘটায়।
-অঙ্কিতা পাল

