বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই জনবহুল রাস্তায় চলল গুলি। নিশানায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ।
বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চন্দ্রনাথবাবুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় তাঁর গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার কাছে একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে তাঁর স্করপিও গাড়িটি দাঁড়িয়েছিল। চন্দ্রনাথবাবু চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় বাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতি কাছ থেকে পর পর গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চন্দ্রনাথ রথের শরীরে অন্তত তিনটি গুলি লেগেছে। ঘটনার পরই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথ ও চালককে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গাড়ির চালক চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। খবর পাওয়া মাত্রই মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালে পৌঁছোন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছেছেন সুকান্ত মজুমদার, অর্জুন সিং, অগ্নিমিত্রা পাল এবং রুদ্রনীল ঘোষ এবং কৌস্তভ বাগচী।
এই ঘটনার খবর ছড়াতেই হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। শুধু তাই নয়, 'তৃণমূলের চক্রান্ত' বলে বারংবার অভিযোগ উঠে আসছে তাদের থেকে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বদের গ্রেফতার করার দাবিও জানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে মধ্যমগ্রাম এবং এয়ারপোর্ট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনার তদন্তে নেমেছেন জেলা পুলিশ সুপার সহ উচ্চপদস্থ কর্তারা। আততায়ীদের শনাক্ত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এমন শ্যুটআউটের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ পিকেট।
-অঙ্কিতা পাল

