রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার বড় ধাক্কা। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে দল বদল করে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু। কিন্তু মাত্র চার মাস কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
সোমবার রাজনৈতিক মহলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত ইস্তফাপত্রে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি অবিলম্বে দল ছাড়ছেন। তবে এই পদত্যাগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চন্দ্র বসুর এই পদত্যাগের পিছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার এক ইতিহাস। ২০১৬ সালে তিনি তৎকালীন সময়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। পরবর্তীতে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ২০২৩ সালে তিনি বিজেপি ছাড়েন। এরপর চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে গত ১২ এপ্রিল তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। সেই সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, বিজেপিতে যাওয়া তাঁর জীবনের একটি বড় ভুল ছিল এবং তা সংশোধন করতেই তিনি তৃণমূলে এসেছেন। কিন্তু মাত্র চার মাসের মাথাতেই সেই মোহভঙ্গ ঘটে।
দল ছাড়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্র কুমার বসু জানান যে, তিনি বর্তমানের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলি নিয়ে যথেষ্ট হতাশ। তাঁর মতে, তৃণমূল এবং বিজেপি-উভয় দলই আদতে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের কাঠামোর মধ্যে আর আবদ্ধ না থেকে, এবার তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শকে সামনে রেখে দেশের যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক পথ চলার কথা ভাবছেন। তাঁর এই নতুন ভাবনার মূল ভিত্তি হবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সকলের অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়ের দিশা দেখানো।
পরিশেষে বলা যায়, নেতাজির পরিবারের কোনো সদস্যের এমন ঘন ঘন দলবদল এবং শেষমেশ প্রচলিত রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ভাবাদর্শে নতুন পথ খোঁজার এই প্রচেষ্টা বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন সময়ের অপেক্ষা।
-জ্যোতি সরকার

