দেশজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও নিট-ইউজি বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ জুলাই ওড়িশা ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস (OUHS)-এর এমডি/এমএস মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কাঁদা ছোড়াছুড়ি ও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে। এই পুরো ঘটনায় এখানে বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং শাসক দল বা কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা দল হিসেবে বিজেপি একে অপরকে আক্রমণ করেছে।
এই ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে সরাসরি নিশানা করে বিরোধী দল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে লেখেন, "গতকাল ছিল নিট, আজ ওড়িশা পিজি মেডিক্যাল পরীক্ষা, আগামীকাল হয়তো অন্য পরীক্ষা! প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বিজেপি সরকারের শিক্ষাব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য।" লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান এবং 'নয়া ভারত'-এর বদলে একে 'নিউ নরমাল' বলে কটাক্ষ করেন।
অন্যদিকে, নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে এতদিন নীরব থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে শাসক দল বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা পাল্টা তোপ দাগেন। তিনি সাফ জানান, "আগে বিরোধী হিসেবে প্রশ্ন তোলাই ছিল আমার কাজ, এখন শাসকদলে থেকে আমার দায়িত্ব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।" এরপরই তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ না দেওয়ার কথা বলে উল্টে তাঁর প্রাক্তন দল আম আদমি পার্টি (আপ) এবং কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। পাঞ্জাবের ফার্মাসি পরীক্ষা ও কর্নাটকের এসএসএলসি পরীক্ষার দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিরোধী দলগুলির কার্যকলাকেই কাঠগড়ায় তোলেন।
এভাবে বিরোধী দল তৃণমূল যখন কেন্দ্র তথা শাসক দল বিজেপিকে প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে বিঁধছে, তখন শাসকশিবিরও পাল্টা বিরোধীদের শাসিত রাজ্যগুলির কেলেঙ্কারি সামনে এনে রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছুড়িতে মেতেছে। সব মিলিয়ে, এই তরজাঁর মাঝে পড়ে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
-জ্যোতি সরকার

