বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর পরে এবার অটোতে ব্যবহৃত এলপিজির দামও বাড়ল। কলকাতায় লিটার প্রতি অটো এলপিজির দাম ৬ টাকা ৪৪ পয়সা বাড়ল। এই আবহে আজ থেকে এলপিজির নতুন দাম হল লিটার প্রতি ৮৯.৪০ টাকা। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে এলপিজির দাম ছিল লিটার প্রতি ৫২ টাকা। এই আবহে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত অটো এলপিজির দর মোট ৩৭ টাকা ৭৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে গত ১১ মার্চ অটোয় ব্যবহৃত এলপিজির দাম বেড়ে হয়েছিল ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। এর পরে ২০ মার্চ দাম বেড়ে হয় ৭০ টাকা ৬৮ পয়সা। এরপর গত ১ এপ্রিল ফের একদফায় অটোর এলপিজি বেড়ে হয় ৮২ টাকা ৯৬ পয়সা। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অটো রুটে ফের একবার ভাড়া বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে সল্টলেকের রুটে অটোর ভাড়া অনেকটাই বাড়ানো হয়েছিল বলে হয়েছিল দাবি করেছিলেন যাত্রীরা। ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে চালকরা বলেছিলেন, যে হারে গ্যাসের দাম বেড়েছে, তাতে ভাড়া না বাড়ালে অটো চালানো সম্ভব হবে না আর।
এদিকে আজ আবার ৫ কেজি ওজনের ঘরোয়া ছোটু সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২৬১ টাকা। অপরদিকে আজ, ১ মে থেকে, মুম্বই ও দিল্লিতে ১৯ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ টাকা বেড়েছে। কলকাতায় বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৯৯৪ টাকা। ইন্ডিয়ান অয়েলের প্রকাশিত মূল্য অনুসারে, ১ মে থেকে দিল্লিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ টাকা বেড়ে ৩০৭১.৫০ টাকা হয়েছে। আগে তা ছিল ২০৭৮.৫০। এদিকে দিল্লিতে ১৪.২ কেজি ওজনের ঘরোয়া সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। দিল্লিতে ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকাই আছে। এদিকে কলকাতায় একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০২ টাকা। এর আগে কলকাতায় ২২০৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল ১৯ কেজি ওজনের সিলিন্ডার। কলকাতায় ৯৩৯ টাকায় বিকোচ্ছে ঘরোয়া সিলিন্ডার।
প্রসঙ্গত, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্ব জুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। এই আবহে চলতি বছরের শুরু থেকেই ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে চলেছে। জানুয়ারি মাসে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে আরও ৩১ টাকা বাড়ানো হয় ১৯ কেজির সিলিন্ডার। মার্চে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং এপ্রিলে ২১৮ টাকা দাম বাড়ানো হয় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারে। আর এবার একধাক্কায় ৯৯৩ টাকা বাড়ল গ্যাসের দাম। তবে ১৪.২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

