তোলাবাজি মামলায় আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এবার সেই তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল কর্মী অমর নস্কর ও কল্যাণ মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অমর নস্কর এবং কল্যাণ মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই দেবরাজ চক্রবর্তী ও কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বলপূর্বক জমি দখল, তোলাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখানো, প্রাণনাশের হুমকি এবং একাধিক ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই মামলার অভিযোগকারী শুভজিৎ নস্কর। তাঁর দাবি, রঘুনাথপুর এলাকায় তাঁর ৩৩ কাঠা জমি রয়েছে। ২০২২ সালে ওই জমিতে একটি আবাসন তৈরির জন্য এক প্রোমোটারের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। অভিযোগ, চুক্তি হওয়ার পরই অমর নস্কর, অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননী এবং কল্যাণ মুখোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে তাঁকে নির্মাণকাজ বন্ধ করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন।
অভিযোগ, অভিযুক্তরা শুভজিৎ নস্করকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। কোনওরকমে সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান তিনি। পরে থানায় অভিযোগ জানালেও তখন পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়।
শুভজিৎ নস্করের আরও অভিযোগ, এরপর থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হতে থাকে। বলা হয়, এলাকায় নির্মাণকাজ করতে হলে সমস্ত নির্মাণসামগ্রী অভিযুক্তদের কাছ থেকেই কিনতে হবে। পাশাপাশি প্রতি স্কোয়ার ফুট নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হবে। এই শর্ত না মানলে মিথ্যা ফৌজদারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বুধবার রাতে বাগুইআটি থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শুভজিৎ নস্কর। অভিযোগে তিনি দেবরাজ চক্রবর্তী, সমরেশ চক্রবর্তী, অমর নস্কর, অমিত চক্রবর্তী এবং কল্যাণ মুখোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে অমর নস্কর ও কল্যাণ মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই গ্রেপ্তারির ফলে তোলাবাজি মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চলা তদন্তেও এই দুই অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র এনে দিতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। সিট ইতিমধ্যেই গোটা অভিযোগের আর্থিক লেনদেন, জমি দখল এবং তোলাবাজির অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।

