কয়লা কেলেঙ্কারির মামলায় আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈন এবং ঋষি রাজ সিংকে দিল্লিতে জেরা করতে চায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে ইডি যুক্তি দিয়ে বলে, কলকাতায় সিবিআই এবং ইডির অফিস তদন্তের জন্য সুরক্ষিত নয়। উল্লেখ্য, আইপ্যাক অফিস এবং প্রতীকের বাড়িতে ইডি হানার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ফাইল ছিনতাইয়ের' বিষয়টি এখন 'হাতিয়ার' হিসেবে ব্যবহার করছে ইডি।
উল্লেখ্য, কয়লাকাণ্ডে জেরার জন্য প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিং-কে দিল্লিতে তলব করা হলে সেই তলবের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেন তাঁরা। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বা কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান তাঁরা। তাঁদের যুক্তি, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু নির্বাচনে স্ট্র্যাটেজি তৈরির কাজে ব্যস্ত তাঁরা। এদিকে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ইডিকে প্রশ্ন করেন, পাঁচবছর ধরে কয়লা পাচারকাণ্ডে তদন্ত চলছে। এই আবহে এখনই কেন তলব করা হচ্ছে আইপ্যাক কর্তাদের? এরই সঙ্গে ইডিকে এই নিয়ে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়।
এদিকে আইপ্যাক মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাণ্ডকারখানাকে ভালো চোখে দেখেনি সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলার শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল, 'ইডির তদন্তে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়াটা অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রীও এ ভাবে অন্য কোনও দফতরে প্রবেশ করেন, তখন তার বিচার কী ভাবে হবে?' উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগ এনেছিল ইডি। সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, ইডি হানার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় আসেন মুখ্যমন্ত্রী। খালি হাতে ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। তারপর সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন। সেখানে তৃণমূলের হার্ডডিস্ক, কৌশল সংক্রান্ত নথি আছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকে একগুচ্ছ নথি তোলা হয় গাড়িতে। পরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাগজ, নথি, ফাইল পড়েছিল। সেগুলো তৃণমূলের কাগজপত্র। সেগুলিই গাড়িতে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন মমতা। এদিকে আইপ্যাকের থেকে কোনও জিনিস বাজেয়াপ্ত করলে ইডি অফিসারদের গ্রেফতার করা হবে - পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার নাকি এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

