বর্তমান সময়ে বাংলায় সবথেকে আলোচ্য বিষয় হল যুবসাথী স্কিম। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ভাতা চালু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এই স্কিমের আওতায় বহু যুবক যুবতী ইতিমধ্যে ১৫০০ টাকা করে পেয়ে গিয়েছেন। আর কিছু মানুষ অপেক্ষা করছেন টাকা আসার। কিছুজনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে দেওয়া ১৫০০ টাকা নিয়ে ধন্ধ শুরু হয়েছে।
আদৌ তাঁরা টাকা পাবেন তো? প্রশ্ন উঠছে কারণ, অনেকের মোবাইলে মেসেজ ঢুকলেও টাকা ঢোকেনি। তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না যে কী ঘটেছে, কেন ঢুকল না টাকা। এবার কী করতে হবে, তাও বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। আপনিও কী এই সমস্যার মধ্যে পড়েছেন? তাহলে বিশদে জানতে চোখ রাখুন এই প্রতিবেদনটির ওপর।
কবে মিলবে 'যুবসাথী'র টাকা?
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে রাজ্য সরকার যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্কিম এনে সকলকে চমকে দিয়েছিল, এবারেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলায় ভোটের দামামা বেজে যাবে। তার আগেই রাজ্য বাজেটে বাংলার যুবকদের ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আগে ১৫ আগস্ট থেলে থেকে এই টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, পরে বলা হয় এপ্রিল মাস থেকে টাকা দেওয়া হবে। তারপর, নারী দিবসের প্রাক্কালে, ৭ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে ডিবিটি সেই দিন থেকেই শুরু হবে। ঘোষণা অনুযায়ী, অনেকে টাকা পেয়েছেন তো আবার অনেকে পাননি।
রাজ্যের বহু কর্মপ্রার্থী যুবক-যুবতী সম্প্রতি 'বাংলার যুবসাথী' প্রকল্পের একটি মেসেজ পেয়েছেন। ইনফরমেশন এন্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এই মেসেজ আসার পর অনেকেই ভাবছেন যে তাদের অ্যাকাউন্টে খুব শীঘ্রই টাকা জমা পড়বে। কিন্তু টাকা আসছে কই? এখানে দুটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে- প্রথমত, ব্যাঙ্কের সমস্যার কারণে ঘটতে পারে এমনটা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গ্রাহকদের কেওয়াইসি আপডেট করা থাকে না। এক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টে লেনদেনে সমস্যা দেখা দেয়। সরকারি অনুদানে ঢোকে না। দ্বিতীয়টি হল, ফর্ম পূরণের সময় গন্ডগোল। কেউ যদি অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ার সময় একটি ডিজিটও ভুল লিখে থাকেন, তাহলেই অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নামের সঙ্গে আবেদনকারীর নাম মিলবে না। ফলে ট্রেজারি থেকে টাকা পাঠানো হলেও তা ফিরে যাবে। ফলে প্রথমত এই দুটো বিষয় আপনাদের চেক করতে হবে। ব্যাঙ্কের গোলমাল কিনা, তা বুঝতে নিজেই কারও সঙ্গে লেনদেন করুন। তাতে সমস্যা না হলে বুঝবেন অ্যাকাউন্টে গণ্ডগোল নেই। সেক্ষেত্রে সরাসরি চলে যান স্থানীয় ব্লক বা বিডিও অফিসে। নথিতে কোনও গন্ডগোল থাকলে তা শুধরে নিলেই নিশ্চিন্ত।
'যুবসাথী'র যোগ্যতা কী?
এই অর্থ সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত প্রদান করা হবে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যে কেউ দশম শ্রেণি পাস হওয়া পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এবং সম্পূর্ণ বেকার হলে তবেই আবেদনপত্র গৃহীত হবে। পুরুষ, মহিলা এবং তৃতীয় লিঙ্গ উভয়ই স্বাগত। তবে আপনি যদি ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগী হন বা অন্যান্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণকারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি এই টাকা পাবেন না। শেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চের মধ্যে ৮৪ লক্ষ মানুষ যুবসাথীর জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে কমপক্ষে এক কোটি ইতিমধ্যেই নাম নথিভুক্ত করেছেন।

