Saokat Mach Chor Song: ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে নিয়ে লেখা গান ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সেই গানটি আইসএফ বানিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই আবহে ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি মুখ খুললেন নিজের প্রতিপক্ষকে নিয়ে। তিনি বলেন, 'আমার ফেসবুক ফিডে বারবার গানটি আসছে।
কানাডাতেও গানটি হইহই করে চলছে, সবাই মজা পাচ্ছেন।' তিনি যদিও দাবি করেন, আইএসএফের এই গানের সাথে সরাসরি কোনও যোগ নেই। যদিও এই গানটি ব্যবহৃত হয় আইএসএফের প্রচার মিছিলে।
নওশাদ আরও বলেন, 'মাছচোর কেন? ও তো একজন খুনি, বোমাবাজ, ডাকাত। মাছচোর বললে খুব কম বলা হয়। ভাঙড়, ক্যানিংয়ের প্রতিটি মানুষ জানেন, শওকত মোল্লা ঠিক কী? ওকে সবাই গুন্ডা বলেই চেনে। বোমাবাজি, অশান্তির জন্য বিখ্যাত শওকত মোল্লা। মাছচোর কেন হবে?'
উল্লেখ্য, ক্যানিংয়ের মৌখালির বাসিন্দা শওকত রাজনীতিতে আসার আগে মাছচাষ এবং মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই আবহে গানটিতে শওকতকে 'মৌখালির গাঁজাখোর' বলে আক্রমণ শানানো হয়েছে। এরই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, শওকত 'মাছ চোর' ছিলেন। সেই গানটি নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে মিমের বন্যা। এই আবহে চরিত্রহননের অভিযোগে গানের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন শওকত মোল্লা।
নির্বাচনের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল গানটি। ভাঙড়েও তরুণ প্রজন্মের আইএসএফ কর্মীদের এই গানটি বাজিয়ে মিছিল করতে দেখা গিয়েছে। আর সম্প্রতি এই গানটি দল, মত নির্বিশেষে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই আবহে স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছেন শওকত মোল্লা। তৃণমূল নেতার কথায়, 'নোংরামোর একটা সীমা থাকা উচিত। যারা এসব করেছে, সেটা তাদের নিচু মানসিকতার পরিচয়। রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিক ময়দানে হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়ে রাজনৈতিকভাবে জয়ী হওয়া যায় না। আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই আইনের দ্বারস্থ হব।'
প্রসঙ্গত, এবার ভাঙড়ে তৃণমূল প্রার্থী করেছে শওকত মোল্লাকে। এর আগে শওকত ক্যানিং পূর্ব আসনের প্রার্থী ছিলেন। তাঁর আসন বদল নিয়েও গানটিতে কটাক্ষ রয়েছে। এদিকে শওকতের বিপক্ষে এই আসনে মূল প্রতিপক্ষ হলেন আইএসএফের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। এমনিতে রাজনৈতিক হিংসার জন্য পরিচিত ভাঙড়ে এবার তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হয়েছে। ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন শওকত। তবে এবার তাঁকে নিয়ে লেখা এই গানে চড়তে শুরু করেছে রাজনৈতিক উত্তাপ।

