Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Proof of Citizenship: ১৬টি নথি জমা দিয়েও নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ! অসমের বাসিন্দাকে 'বিদেশি' ঘোষণা হাইকোর্টের

Proof of Citizenship: ১৬টি নথি জমা দিয়েও নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ! অসমের বাসিন্দাকে 'বিদেশি' ঘোষণা হাইকোর্টের

Proof of Citizenship: নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করার জন্য আদালতে ১৬টি নথি জমা দিয়েছিলেন অসমের এক ব্যক্তি। তার পরেও নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারলেন না পেশায় দিনমজুর ওই ব্যক্তি। গত ৩০ জুন তাঁর দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। ঐতিহাসিক রায়ে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি শামিমা জাহান-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথিগুলি ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

তাঁকে বিদেশি নাগরিক বলেই ঘোষণা করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৬টি নথি জমা দিলেও, পিটিশনার ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৬৪-র ৯ নম্বর ধারার অধীনে প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি বিদেশি নন, ভারতীয় নাগরিক। গুয়াহাটি হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, 'কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে, তার উপরই দায়িত্ব বর্তায় প্রমাণ করার যে তিনি বিদেশি নন, ভারতীয় নাগরিক।' গত ৩০ জুন গুয়াহাটি হাইকোর্টে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি শামিমা জাহানের বেঞ্চে একটি রিট পিটিশনের শুনানি চলছিল। সেই মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, 'পিটিশনার ১৬টি নথি প্রমাণ হিসাবে পেশ করলেও, এটি ৯ নম্বর ধারার অধীনে ওই ব্যক্তিকে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করতে সাহায্য করেনি।'

অসমের কামরুপের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আমিনুল হক নামক এক ব্যক্তিকে বিদেশি নাগরিক বলে ঘোষণা করেছিল। ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে পিটিশন দাখিল করেন। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তি পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁকে বিদেশি নাগরিক ঘোষণা করা হয়েছে শুধুমাত্র কিছু নথিতে তাঁর বাবা ও ঠাকুরদার নামে ভুল ছিল। নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে ওই ব্যক্তি ১৬টি নথি আদালতে পেশ করেন। এর মধ্যে ছিল ১৯৫১ সালের এনআরসি-তে তাঁর বাবা ও ঠাকুরদা-ঠাকুমার নাম থাকা কম্পিউটারাইজড কপি, ১৯৬৬ থেকে ২০১৭ সালের বিভিন্ন ভোটার তালিকা, ১৯৭৩ সালের একটি জমি কেনার দলিল, ২০১৭ সালের স্কুলের শংসাপত্র, প্যান কার্ড এবং ইলেক্টরস ফোটো আইডেন্টিটি কার্ড (ইপিক)। পাশাপাশি তাঁর বাবা সাক্ষ্য দিয়ে পারিবারিক পরিচয়। কিন্তু আদালত শুধুমাত্র মৌখিক দাবিকে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। আদালত বলে, 'গ্রহণযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক নথি প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য এই দু'জনের মধ্যে সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়।'

গুয়াহাটি হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, 'আবেদনকারীর বাবার নাম চারভাবে- মহিরুদ্দিন শেখ, মাহরুদ্দিন শেখ, মহিরুদ্দিন এবং মহির উদ্দিন হিসাবে উল্লেখ থাকলেও, আবেদনকারীর দাদু ও বাবার নামের বানানে ভোটার তালিকাগুলিতে যে অমিল দেখা যায়, আদালত তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। অর্থাৎ মহিরুদ্দিন শেখ, মাহরুদ্দিন শেখ, মহিরুদ্দিন এবং মহির উদ্দিন- সবার বাবার নাম পাসান আলি হিসাবে উল্লেখ থাকলেও, আবেদনকারী এটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে পরিবারের দাবি করা সদস্যরা অর্থাৎ পাসান আলি, মহিরুদ্দিন কিংবা আবেদনকারী আমিনুল হক, ডোবাকুড়া, ঘুগুডোবা এবং হাসডোবা-এই তিনটি গ্রামের সমস্ত ভোটার তালিকায় ধারাবাহিকভাবে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।' উচ্চ আদালত আরও বলেছে, 'দেখা যাচ্ছে, মামলার দুর্বল দিকগুলি ঢাকতে জন্য আবেদনকারী মূলত আদালতে প্রদর্শিত ভোটার তালিকার ওপরই ভিত্তি করে সাফাই দেওয়া হয়েছে। কোনও নথিভিত্তিক প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়েছে যে পরিবারটি ডোবাকুড়া থেকে ঘুগুডোবা এবং পরে ঘুগুডোবা থেকে হাসডোবায় স্থানান্তরিত হয়েছিল। আবার ভোটার তালিকায় নামগুলির মিল দেখানোর জন্যও যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার সময় ভুল হয়েছিল।' আদালত আরও উল্লেখ করে যে পিটিশনার হাসডোবা আঞ্চলিক হাইস্কুলের হেডমাস্টারের দেওয়া স্কুল সার্টিফিকেট পেশ করেছিলেন। ২০১৭ সালে তৈরি করা ওই সার্টিফিকেটে উল্লেখ রয়েছে যে ১৯৯৯ সালে পড়ুয়া স্কুল ছেড়েছিল। যিনি শংসাপত্রটি দিয়েছিলেন, তিনি আদালতে সেটির সত্যতা প্রমাণে বা সমর্থনে হাজিরা দেননি।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: HindustanTimes Bengali