
ভোপাল, ৩১ মে (হি.স.): রাতের আকাশে রবিবার দেখা যেতে পারে এক বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা- "ব্লু মাইক্রো মুন"। এটি কোনও নীল রঙের চাঁদ নয়, বরং একই ক্যালেন্ডার মাসে দুটি পূর্ণিমা ঘটলে দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে বোঝাতে ব্যবহৃত একটি প্রচলিত পরিভাষা। এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমার চাঁদ বলে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন।
মধ্যপ্রদেশের বিজ্ঞান প্রসারক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী সরিকা ঘারু জানিয়েছেন, এই মাসের প্রথম পূর্ণিমা ছিল ১ মে, আর ৩১ মে দ্বিতীয় পূর্ণিমা পড়ায় একে ব্লু মুন বলা হচ্ছে।
কারণ দুই পূর্ণিমার মধ্যে ব্যবধান থাকে প্রায় ২৯.৫ দিন। এর সঙ্গে আজকের চাঁদ পৃথিবীর কক্ষপথে সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থান-অ্যাপোজি'র কাছাকাছি থাকবে। ফলে এটি স্বাভাবিক পূর্ণিমার তুলনায় সামান্য ছোট ও কম উজ্জ্বল দেখা যাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাবে, পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব থাকবে প্রায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার কিলোমিটার। এই অবস্থানে চাঁদের আকার প্রায় ৫-৭ শতাংশ ছোট এবং উজ্জ্বলতা প্রায় ১০ শতাংশ কম মনে হয়। একই রাতে ব্লু মুন এবং মাইক্রো মুনের এই সমাপতন তুলনামূলকভাবে বিরল।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজকের পূর্ণিমা বৃশ্চিক রাশিতে অবস্থান করবে। ফলে আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র অ্যান্টারেসের কাছ দিয়ে চাঁদের অগ্রসর হওয়া দেখা যাবে, যা খালি চোখেই পর্যবেক্ষণযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কোনো অতিপ্রাকৃত বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন নয়, বরং চাঁদের কক্ষপথে গতির স্বাভাবিক ফল। পরবর্তী ব্লু মুন দেখা যাবে ২০২৭ সালের মে মাসে, এবং তার পরবর্তী উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলি ঘটবে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর (পূর্ণগ্রহণসহ) এবং ২০২৯ সালের ২৪ আগস্টে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য

