
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২৯ মে (হি.স.) : ধলাই জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করলো জনৈকা কিশোরী। মাত্র দু-বছরের কঠোর অনুশীলনেই জাতীয় স্তরে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে সকলের নজর কেড়েছে অনিতা ত্রিপুরা। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত গোটা রাজ্য।
ধলাই জেলার আমবাসা মহকুমার মানিকপুর গ্রামের ফরেস্ট কোয়ার্টারের বাসিন্দা অনিতা ত্রিপুরা বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের জোরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে সে।
গত বছরের ডিসেম্বরে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় সিলভার মেডেল জয় করে প্রথমবারের মতো রাজ্যের ক্রীড়াপ্রেমীদের নজরে আসে অনিতা। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে অনুষ্ঠিত জাতীয় কুরাস প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে আবারও ত্রিপুরার মুখ উজ্জ্বল করে সে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ত্রিপুরা থেকে জাতীয় প্রতিযোগিতায় মোট ১৯ জন প্রতিনিধি অংশ নিলেও ব্রোঞ্জ পদক জিততে সক্ষম হয় একমাত্র অনিতা ত্রিপুরা। তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং রাজ্যের জন্যও এক বড় সম্মানের বিষয় হয়ে উঠেছে।
অনিতার এই অসাধারণ কৃতিত্বকে সম্মান জানাতে শুক্রবার তাঁকে সংবর্ধনা দেয় আসাম রাইফেলসের ২৮ নম্বর ব্যাটেলিয়ান। ঊনকোটি জেলার ফটিকরায়ের রাধানগরে অবস্থিত ব্যাটেলিয়ানের সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমান্ডেন্ট ধর্মেন্দ্র সিং চৌহান, আধিকারিক হারকিরাত, অনিতার বাবা গজেন্দ্র ত্রিপুরা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে অনিতার হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়। এছাড়াও তাঁর ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আসাম রাইফেলসের ২৮ নম্বর ব্যাটেলিয়ান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনিতা জানায়, আগামী দিনে জাপানে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে দুটি বড় পদক সহ একাধিক সম্মান অর্জন করেছে সে। নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা গজেন্দ্র ত্রিপুরা এবং কোচ সুবর্ণ মগের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেন অনিতা ত্রিপুরা।
এদিকে আসাম রাইফেলসের কমান্ডেন্ট ধর্মেন্দ্র সিং চৌহান বলেন, অনিতার সাফল্য আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর লড়াই এবং সাফল্যের গল্প যুব সমাজের কাছে এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি জানান, এই সংবর্ধনার মাধ্যমে শুধু অনিতাকে সম্মান জানানো নয়, বরং রাজ্যের তরুণদের খেলাধুলা ও দেশসেবার প্রতি উৎসাহিত করাই মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বাহিনীর জওয়ানদের পাশাপাশি ভারত সরকারের অগ্নিবীর প্রকল্পে যোগ দিতে আগ্রহী বহু যুবকও উপস্থিত ছিলেন।
মাত্র দু-বছরের নিরলস পরিশ্রমেই জাতীয় মঞ্চে নিজের জায়গা করে নিয়েছে অনিতা ত্রিপুরা। তার এই সংগ্রাম ও সাফল্য প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি, নিষ্ঠা এবং অধ্যবসায় থাকলে যেকোনও প্রতিকূলতাকে জয় করে স্বপ্নপূরণ সম্ভব। অনিতা ত্রিপুরার এই অর্জনে গর্বিত ধলাই জেলা তথা সমগ্র ত্রিপুরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ

