Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
এক মাসে মালদা মেডিক্যাল কলেজে ৮৩ জন নবজাতকের মৃত্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

এক মাসে মালদা মেডিক্যাল কলেজে ৮৩ জন নবজাতকের মৃত্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

মালদা, ২৯ আগস্ট (হি. স.) : মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসে এ পর্যন্ত এখানে ৮৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর গত জুলাই মাসে প্রাণ হারিয়েছিল ৮৭ জন শিশু। লাগাতার শিশুদের এই মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্য দপ্তর ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মালদা মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যুর এই ছবি কিন্তু শুধু এই বছরের নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এখানে এই ধরনের পরিসংখ্যান সামনে আসছে। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এখানে ১০০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, যেখানে ২০২৪ সালের আগস্টে ৯৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছিল। মালদা মেডিক্যাল কলেজের এই শিশুমৃত্যুর হার দেখে বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত। জানা গেছে যে, রাজ্যের অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তুলনায় মালদা মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যুর ঘটনা এবং ভর্তি হওয়া রোগীদের চাপ অনেকটাই বেশি।

পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বিবেচনা করে শনিবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল মালদা মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করে। দলটি শিশুমৃত্যুর কারণ, হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান পরিকাঠামো বিশদে পর্যালোচনা করে দেখে। এই প্রতিনিধি দলে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিক, মুর্শিদাবাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং এসএসকেএম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

মালদা মেডিক্যাল কলেজে শিশুদের ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক সময় এক মাসে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি শিশুকেও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, রাজ্যের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের তুলনায় মালদা মেডিক্যাল কলেজে রোগীদের চাপ অনেক বেশি।

বিহার, ঝাড়খণ্ড, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাসহ বিভিন্ন জেলা ও রাজ্য থেকে অত্যন্ত সংকটজনক রোগীরা এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকেও রোগীরা চিকিৎসা করাতে মালদা মেডিক্যাল কলেজে আসেন। রোগীদের অতিরিক্ত চাপ এবং সেই অনুপাতে সীমিত পরিকাঠামোকে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

মালদা মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বর শিশুমৃত্যুর বিষয়ে বলেন যে, অধিকাংশ শিশুকে অন্যান্য হাসপাতাল থেকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেফার করে এখানে আনা হয়। তিনি জানান, অন্য রাজ্য ও জেলা থেকেও অনেক সংকটজনক রোগী রেফার হয়ে আসেন। হাসপাতালের তরফ থেকে যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয়, কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় আসা সমস্ত শিশুকে বাঁচানো সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, মালদা মেডিক্যাল কলেজে রোগীদের মাত্রাতিরিক্ত চাপ রয়েছে এবং হাসপাতালে কর্মীর সংখ্যাও চাহিদার তুলনায় কিছু কম। শনিবার আসা বিশেষজ্ঞ দলের অনুসন্ধানের পর লাগাতার শিশুমৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Hindusthan Samachar Bangla