Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story

"একটি শব্দও ইসলামের বিরুদ্ধে লেখেন নি তসলিমা", দাবি তথাগতের

লকাতা, ৫ আগস্ট (হি স): ইসলামের বিরুদ্ধে তসলিমা নাসরিন একটি শব্দও লেখেন নি বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।

তথাগতবাবু বুধবার এক্সবার্তায় লিখেছেন, "ঠিকই পড়ছেন, উনি যে উপন্যাস লেখার জন্য নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হন সেই লজ্জা উপন্যাসে একটিও শব্দ ইসলামের বিরুদ্ধে লেখেননি।

অবাক হচ্ছেন জেনে তাহলে আরও একবার পড়ে দেখে নিন।

৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ ভারতে বাবরি ভেঙে ফেলার পর বাংলাদেশ ও পাকিস্থানের হিন্দুদের ওপর চূড়ান্ত অত্যাচার শুরু করে জেহাদীরা। আর সংখ্যালঘু হিন্দুদের চোখের জল ছাড়া কি বা আছে? এই দুটি দেশে আজও আদালত হোক বা পুলিশ সবাই জেহাদী, যেভাবে হোক হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালাবেই।

আজও বাংলাদেশের একের পর এক হিন্দু মন্দির, হিন্দুদের বাড়ি ভেঙ্গে তছনছ করে দিচ্ছে উগ্রবাদীরা। দীপু দাসের ঘটনা তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

এক শিক্ষিত পরিবারের স্বাধীনচেতা পরিবেশে হিন্দু মুসলিম মিলেমিশে মানুষ হওয়া তসলিমা নাসরিন চোখের সামনে হিন্দু নির্যাতন দেখে, খালেদা জিয়ার রাজনীতি আর প্রশাসনের সেই জেহাদীদের সমর্থন দেখে লিখেছিলেন লজ্জা উপন্যাস।

বাংলাদেশের খালেদা জিয়া প্রশাসনের কাছে এই 'লজ্জা' উপন্যাস ছিল লজ্জার সবচেয়ে বড় পোষ্টার। সারা পৃথিবী জানতে পেরেছিল কিভাবে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কোথায় কত অত্যাচার হয়েছে, বইটির ছত্রে ছত্রে সেই তথ্য আর শিউরে ওঠার কাহিনী।

কত প্রাচীন মঠ মন্দির মাটিতে মিশে গেছে, কত হিন্দু মেয়েদের তুলে নিয়ে গেছে, কত জমি রাতারাতি দখল হয়ে গেছে আর কত লাশ গুম হয়ে গেছে তার ভগ্নাংশ তথ্য সামনে আসতেই বাংলাদেশের জেহাদীদের রক্ত গরম হয়ে যায়। কেন এই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে? একের পর এক বিদেশী পত্রিকায় বাংলাদেশের লজ্জাজনক ছবি বেরিয়ে আসে।

ওদিকে হিন্দুদের ভারতে পালিয়ে আসার ঢল নামে।

এই যন্ত্রণার পরিবেশে একটি হিন্দু ছেলে সুরঞ্জনের হিন্দু প্রেমিকা নিজের শরীর, পরিবারের সম্মান বাঁচাতে হিন্দু প্রেমিক সুরঞ্জনকে ছেড়ে মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করে। এই কাহিনী প্রমাণ হিন্দুদের জন্য কতটা ভয়ের পরিবেশ আছে বাংলাদেশে। লাখ লাখ চাপা কান্নার ভিড়ে হারিয়ে যায় সুরঞ্জনের প্রেম, মাথা তুলে বাঁচার ইচ্ছে।

এটুকুই ছিল লজ্জা। ইসলাম বা নবীর সম্পর্কে একটি অক্ষরও লেখেননি তখন।

হিন্দুদের এই হাহাকার এক মুসলিম লেখিকা কিভাবে লিখতে পারে? একজন হিন্দু লেখক লিখলে তাকে দগিয়ে দেওয়া যেত যে সে হিন্দু তাই বাড়িয়ে বাড়িয়ে লিখেছে।

তসলিমার সামনে নিরুত্তর ছিল না খালেদা জিয়ার দল, লেলিয়ে দেওয়া হল উগ্রবাদীদের, বাড়ি থেকে পালিয়ে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ালেন তারপর দেশ ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। সুইডেন তাকে নাগরিকত্ব দিল, আজও তিনি সুইডেনের নাগরিক।

বিদেশে বিতাড়িত হলেও তাঁর জীবন জুড়ে বাংলাদেশ আর ভারত। মেয়েদের শিক্ষা - স্বাধীনতা, শিশুদের অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, পশুপ্রাণীসহ পরিবেশ নিয়ে তার কলম নিরন্তর চলছে। যেকোনও ধর্মের কুসংস্কার, অত্যাচার দেখলে তিনি সরব হন।

তিনি বাংলাদেশ থেকে চলে আসার পর সারা পৃথিবীর বহু পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ সেই জায়গাতেই রয়ে গেছে।

আজও চিন্ময় প্রভু জেলবন্দী মিথ্যা মামলায়, আজও হিন্দুদের জমি দখল করছে জেহাদীরা, আজও জোর করে ধর্মান্তকরণ চলছে সেখানে। সারা পৃথিবীর সেরা মানব সম্পদের পূর্ব বাংলায় এখন চাষ হচ্ছে মৌলবাদ আর হিংসার। হিন্দুদের সংখ্যা আজ আরও কমে গেছে সেখানে।

সেদিনের 'লজ্জা' উপন্যাস আজও প্রাসঙ্গিক, আজও তসলিমা নাসরিন মৌলবাদীদের পথের কাঁটা।

পথের কাঁটা ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীদের জন্যও। বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে জোর গলায় চেঁচানো বামপন্থীরা উলঙ্গ হয়ে পড়েছিল যখন কোলকাতার কয়েকটি জেহাদী তার বিরুদ্ধে পথে নামে, মৌলবাদীদের সামনে মেরুদণ্ড বেঁকিয়ে সিপিএম পার্টির নেতারা তাকে কোলকাতা থেকে বাইরে পঠিয়ে দেন। বামপন্থীদের সেকুলারি ছদ্মবেশ খুলে পড়ে যায়।

আবার তিনি কোলকাতায়, পরিবর্তনের পরিবর্তন হয়েছে। এক মুসলিম আইনজীবী আমন্ত্রণ করে এনেছেন তাঁকে, স্বাগত জানিয়েছে সারা পশ্চিম বাংলার মানুষ। ঠিক ভুল যাই হোক আইনের উপরে কেউ নয়, অন্তত আইনের প্রতিষ্ঠা হয়েছে এই পশ্চিম বাংলায়।"

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Hindusthan Samachar Bangla