
হুগলি , ২৯ মে (হি. স.) : আরামবাগের গৌরহাটি-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে মদের বোতল, জন্মনিরোধক সামগ্রী ও তথাকথিত উত্তেজক ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম নিতে এসে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী পঞ্চায়েত অফিসের একটি ঘরে মদের বোতল দেখতে পান।
অভিযোগ, এরপর তল্লাশি চালিয়ে আরও আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।
বিজেপির আরামবাগ বিধানসভার ৪ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু নন্দী বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, "এটা শুধু অনিয়ম নয়, এটা প্রশাসনিক নৈতিকতার চরম পতন। চাকরির টোপ দিয়ে মহিলাদের এনে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হত কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। সরকারি অফিসকে কেউ ব্যক্তিগত ভোগবিলাসের ডেরায় পরিণত করেছে। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। বহু মানুষ পঞ্চায়েত অফিস ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অফিস ঘিরে নানা সন্দেহজনক যাতায়াত ছিল। কিন্তু কেউ মুখ খুললে রাজনৈতিক চাপ আসত বলেও দাবি একাংশের।
দিনের পর দিন একটি সরকারি কার্যালয়ে এত বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর সামগ্রী মজুত থাকল, অথচ কেউ কিছু জানল না? নাকি সব জেনেও চোখ বুজে ছিল প্রশাসনের একাংশ? শাসক দলের দাবি, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পঞ্চায়েতের নয়, গোটা ব্যবস্থার পচন ধরা চেহারা সামনে এনে দিয়েছে।যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সরকারি কার্যালয়ে কীভাবে এই ধরনের সামগ্রী এল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
তবে এ বিষয়ে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA
