
নয়াদিল্লি, ৩১ মে (হি.স.) : দেশের জল গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সোমবার রাজধানী দিল্লির ড. আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে আয়োজিত হতে চলেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মশালা। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত 'জল ক্ষেত্রে গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতীয় কর্মশালা'-য় সরকার, শিল্পক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
রবিবার জলশক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের জল সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবনকে নতুন গতি দেওয়াই এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে দেশের জল উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ-'মহা মিশন' (মিশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট ইন হাই-ইমপ্যাক্ট এরিয়াস ফর ওয়াটার ) এবং 'ভারত-উইন পোর্টাল' -এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
এদিন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি.আর. পাটিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. জিতেন্দ্র সিং এবং জলশক্তি প্রতিমন্ত্রী রাজভূষণ চৌধুরী যৌথভাবে কর্মশালার উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মহাকাশ বিভাগের সচিব ও ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, কৃষি ও জল সংরক্ষণ বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক এবং জাতীয় জল মিশনের অতিরিক্ত সচিব-সহ একাধিক বিশেষজ্ঞ।
কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণ হবে জলশক্তি মন্ত্রক এবং ইসরো-র মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর। এই চুক্তির মাধ্যমে জলসম্পদ মূল্যায়ন, ভূগর্ভস্থ জল পর্যবেক্ষণ, বন্যা সমতলভূমির মানচিত্রায়ন, নদীর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ, বাঁধ নিরাপত্তা এবং নগর জলাধার ব্যবস্থাপনায় উপগ্রহভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আরও জোরদার করা হবে। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত ২৪টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
'মহা মিশন' জলশক্তি মন্ত্রক এবং অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এএনআরএফ)-এর যৌথ উদ্যোগ। এই প্রকল্পের লক্ষ্য নিরাপদ পানীয় জল, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জল ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই জল ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া।
এছাড়াও 'ভারত-উইন পোর্টাল'-এর মাধ্যমে স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির (এমএসএমই) জন্য নতুন প্রযুক্তি, পণ্য এবং প্রোটোটাইপ তৈরির উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এর ফলে জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলিকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
এই কর্মশালায় আরও চালু করা হবে 'ক্যাচ দ্য রেন' নামে একটি অংশগ্রহণমূলক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সংস্থা বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও জল রক্ষা সংক্রান্ত নিজেদের উদ্যোগের তথ্য নথিভুক্ত ও প্রদর্শন করতে পারবেন।
কর্মশালায় ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনা, নদীর আকৃতি ও প্রবাহ বিশ্লেষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নগর জলাধার মানচিত্রায়ন এবং জল প্রশাসনে রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি গত ১২ বছরে জল গবেষণার ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের মূল্যায়ন এবং ষোড়শ অর্থ কমিশনের সময়কালের জন্য ভবিষ্যৎ কৌশলগত অগ্রাধিকারের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং এমএসএমই সংস্থাগুলি জল সংরক্ষণ ও টেকসই জল ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সমাধানগুলি তুলে ধরবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য

