
কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢুকে ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই হামলার পেছনে বিজেপির লোকজনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ চক্রান্ত ও নাটক বলে অভিহিত করেছেন।
অভিষেকের দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে চারটে নাগাদ কিছু লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পার্টি কার্যালয়ে ঢোকে এবং সেখানে থাকা আসবাবপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। কার্যালয়ে উপস্থিত কর্মীদের মারধর করা এবং তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। দলের দাবি, কার্যালয় থেকে এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি হামলার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। যদিও সেই ফুটেজের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, দলের কর্মী ও আইনজীবীরা বারবার ফোন ও ই-মেলের মাধ্যমে পুলিশকে ঘটনার খবর দিলেও প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে পুলিশের তরফে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি এটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অভিষেক পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, এই হামলার পরিকল্পনা কে করেছিল, কারা এটি সংগঠিত করেছিল এবং কার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে তা খুঁজে বের করতে হবে। বারবার খবর দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কেন সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় বিজেপির কোনো ব্যক্তি যুক্ত নন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সকাল সাড়ে চারটের সময় তৃণমূলের কর্মীরা কার্যালয়ে কী করছিলেন? সজল ঘোষ অভিযোগ করেন যে, প্রচার পাওয়ার জন্যই তৃণমূল নিজেরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
তৃণমূল ঘটনাটিকে সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার রাতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। দলের অভিযোগ, তিনি শহরে উপস্থিত নেই জানার পরেই হামলাকারীরা কার্যালয়টিকে নিশানা বানায়।
ক্যামাক স্ট্রিটের এই কার্যালয়টি গত কয়েকদিন ধরেই ক্রমাগত চর্চায় রয়েছে। গত সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে তৃণমূলের নাম লেখা একটি বিলবোর্ড সরাতে গিয়েছিলেন। পুরসভার অভিযোগ ছিল, বিলবোর্ডটি বেআইনিভাবে লাগানো হয়েছিল এবং বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল। সেই সময় তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পুরসভার কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এরপর সোমবার অগ্নিনির্বাপক বিভাগ ও পুলিশের টিম সেই বিল্ডিংটি পরিদর্শন করে, যেখানে অভিষেকের কার্যালয় রয়েছে। আধিকারিকরা বিল্ডিংয়ের অনুমোদিত নকশা ছাড়াও কোনো ধরনের বেআইনি নির্মাণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনের সময় বাইরের অংশে নির্মিত একটি শেড নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছিল।
আধিকারিকরা বিল্ডিংয়ের বেসমেন্টে থাকা পার্কিং এলাকা এবং সেখানে থাকা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও পরীক্ষা করে দেখেন। অগ্নিনির্বাপক আধিকারিকদের মতে, পরিদর্শনের সময় কিছু খামতি ধরা পড়েছিল। আধিকারিকরা জানান, নথিপত্র এবং ঘটনাস্থলের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পর নোটিশ জারি করা হবে। অভিষেকের কার্যালয় যে তলায় অবস্থিত, সেখানে ফায়ার অ্যালার্ম সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি

