Dailyhunt
(লিড) দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, হরমুজ প্রণালী খুলতে রাজি ইরান; ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে স্বস্তি বিশ্বজুড়ে

(লিড) দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, হরমুজ প্রণালী খুলতে রাজি ইরান; ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে স্বস্তি বিশ্বজুড়ে

ওয়াশিংটন/তেহরান/তেল আবিব,৮ এপ্রিল (হি.স.) : টানা উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় আপাতত স্বস্তির হাওয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড়সড় সামরিক হামলা অন্তত দু'সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছেন। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি শর্তসাপেক্ষ। ইরানকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী 'সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে' জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত 'বিধ্বংসী হামলা' দুই সপ্তাহের জন্য তিনি স্থগিতে রাজি হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানও এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আগামী দু'সপ্তাহ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা হবে এবং এই সময়ে যদি কোনও হামলা না হয়, তবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক এবং এটি কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত মিলেছে, আগামী ১০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো-বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলিতে ব্যাপক হামলা চালানো হবে। এই প্রেক্ষাপটেই শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।

আন্তর্জাতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখা হলেও কূটনৈতিক মহলের একাংশ সতর্ক করছে। এটি শুধুমাত্র 'অস্থায়ী বিরতি'। পরবর্তী আলোচনার ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে, নাকি আবারও যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Hindusthan Samachar Bangla