Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মুক্তধারায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভিত্তিক গুরু পূর্ণিমা উৎসব পালিত

মুক্তধারায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভিত্তিক গুরু পূর্ণিমা উৎসব পালিত

আগরতলা, ৩১ জুলাই (হি.স.) : গুরু-শিষ্য পরম্পরা ভারতীয় সংস্কৃতির এক চিরন্তন ঐতিহ্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যাঁদের কাছ থেকে মানুষ শিক্ষা, জ্ঞান ও মূল্যবোধ অর্জন করে, তাঁরাই প্রকৃত গুরু। তাই মা-বাবা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ধর্মীয় গুরু কিংবা যে কোনও পথপ্রদর্শকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের কর্তব্য।

শুক্রবার আগরতলার মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভিত্তিক গুরু পূর্ণিমা উৎসব উদযাপন অনুষ্ঠানে এই বার্তাই তুলে ধরলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মহর্ষি বেদব্যাসের জন্মতিথি উপলক্ষ্যে শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা দিনটি গুরু পূর্ণিমা হিসেবে পালিত হয়। এদিন জ্ঞান, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক গুরুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। সেই উপলক্ষ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন ও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে রাজধানীর মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে আয়োজন করা হয় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভিত্তিক গুরু পূর্ণিমা উৎসব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী নরেশ চন্দ্র দেববর্মা, জগন্নাথ জিউ মন্দিরের অধ্যক্ষ ভক্তি কমল মহারাজসহ বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পক্ষ থেকে অতিথিদের উত্তরীয় ও স্মারক প্রদান করে সংবর্ধনা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্বজিৎ শীল বলেন, গুরু এবং শিষ্যের সম্পর্ক আমাদের সমাজ ব্যবস্থার একটি অমূল্য ঐতিহ্য। অতীতে গুরুদের কাছ থেকেই মানুষ শিক্ষা ও জীবনবোধ অর্জন করত। বর্তমান সময়েও আমাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা শিক্ষা, দিকনির্দেশনা ও মূল্যবোধের পাঠ দেন, তাঁরাই আমাদের গুরু।

তিনি আরও বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাই নন, আমাদের মা-বাবা, ধর্মীয় গুরু, সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিরাও আমাদের জীবনের প্রকৃত পথপ্রদর্শক। যাঁদের কাছ থেকে আমরা কোনও না কোনও শিক্ষা লাভ করি, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

পদ্মশ্রী নরেশ চন্দ্র দেববর্মা এবং ভক্তি কমল মহারাজও তাঁদের বক্তব্যে গুরু-শিষ্য সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুর ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে পশ্চিম জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রশিক্ষণরত শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও ভক্তিমূলক পরিবেশনার মাধ্যমে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং গুরু পূর্ণিমা উৎসবকে আরও বর্ণাঢ্য করে তোলে।

গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা মত প্রকাশ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Hindusthan Samachar Bangla