
নাসিক, ৮ মে (হি.স.): মহারাষ্ট্রের নাসিকে আলোচিত টিসিএস ধর্মান্তরকরণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত নিদা খানকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রায় এক মাস ধরে পলাতক থাকার পর নাসিক ও ছত্রপতি সম্ভাজিনগর পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে সম্ভাজিনগর থেকে আটক করা হয়। শুক্রবার তাকে নাসিক রোড আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই নিদা খান আত্মগোপনে চলে যায়। পরে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) জানতে পারে, সে সম্ভাজিনগরের নারেগাঁও এলাকায় লুকিয়ে আছে। এরপর নাসিক পুলিশ কমিশনার সন্দীপ করনিক এবং সম্ভাজিনগর পুলিশ কমিশনার প্রবীণ পাওয়ারের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়।
তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় এক কাউন্সিলর মতিন মাজিদ প্যাটেল তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। গোপনে দুই দিন ধরে সিভিল পোশাকে ২০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য ওই এলাকায় নজরদারি চালান। শেষ পর্যন্ত গোপন অভিযানে নিদা খানকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অবস্থায় নিদা খান নাসিক, ভিওয়ান্ডি, মুম্বই ও সম্ভাজিনগরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেছিল। তবে প্রযুক্তিগত নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করলেও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে।
তার মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগ, ফোনে ধর্মান্তরকরণের জন্য প্ররোচনামূলক ভিডিও ও বার্তা পাওয়া যেতে পারে।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নাসিক রোড আদালতে ইন-ক্যামেরা শুনানি হয়। আদালত চত্বরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ছিল। সরকারি পক্ষের আইনজীবী পুলিশের হেফাজতের আবেদন করেন, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ জামিনের আবেদন জানায়, যদিও আদালত তা খারিজ করে দেয়।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, তদন্তে বাধা দেওয়া বা অভিযুক্তদের সহায়তা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত দানিশ শেখ ২০২২ সালে কলেজে পরিচয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। চাকরি ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে বিশ্বাসে আনা হয় এবং পরে ধর্মান্তরকরণের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরে ভুক্তভোগী জানতে পারে দানিশ আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। এছাড়াও সহ-অভিযুক্ত তৌসিফ আখতার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
মামলায় এখন নতুন করে অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য

