
তারকেশ্বর, ২৯ মে (হি.স.) : হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে জলসেচের রেকর্ডভুক্ত একটি বড় পুকুর ভরাট করে আলুর চিপস কারখানা চালানোর অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল তারকেশ্বর থানার বালিগড়ি ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাগবাড়ি এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, 'লেথোপুকুর' নামে পরিচিত প্রায় ২৮ বিঘার ওই পুকুরটি সরকারি নথিতে জলসেচের জন্য ব্যবহৃত জলাশয় হিসেবে নথিভুক্ত ছিল।
অভিযোগ, বাম আমলে ধাপে ধাপে পুকুরের আয়তন কমিয়ে ১৪ বিঘা করা হয়। পরে মাটি, আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলে পুকুরটি প্রায় ভরাট করে ফেলা হয়। ওই জমির একাংশে বর্তমানে একটি আলুর চিপস কারখানা চলছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি একটি জনসাধারণের রাস্তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ২০১৭ সাল থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন লেথো শ্মশান কমিটির সভাপতি ছবি হাঁসদা, সম্পাদক অধ্যাপক বাবুসোনা রায় এবং এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, হাইকোর্ট একাধিকবার পুকুর পুনরুদ্ধার ও বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি।
শুক্রবার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান তারকেশ্বরের বিএলআরও আধিকারিক ও তাঁর টিম। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে কারখানা কর্তৃপক্ষকে পুকুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সরেজমিনে গিয়ে আধিকারিকেরা দেখেন, সেই নির্দেশ কার্যকর করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রামবাসীদের একাংশ বলেন, "কোর্টের নির্দেশ মানা না হলে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে কোথায়?" আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত পুকুর পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।
যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA

