
হুগলি , ০২ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ফুড সেফটি সপ্তাহ উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিদর্শন অভিযান জোরদার করেছে খাদ্য নিরাপত্তা দফতর। সেইমতো বুধবার হুগলির রিষড়ায় ফুড সেফটি আধিকারিক ও ইবি আধিকারিকরা রিষড়া থানার পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালান।
এদিন জি.টি. রোডের ধারে একটি নামী বিরিয়ানি দোকানে হানা দিয়ে খাদ্য তৈরির পরিবেশ ও খাদ্যসামগ্রীর গুণমান খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। তদন্তের সময় রাস্তার ধারে খোলা অবস্থায় রাখা বিরিয়ানির হাঁড়ি নিয়ে আপত্তি জানান তাঁরা। হাঁড়ি খুলে দেখতে গিয়ে তার মধ্যে নোংরা কাপড় পড়ে থাকার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি হাঁড়ির উপরে রাখা আটার কিছু অংশ বিরিয়ানির মধ্যে পড়তেও দেখা যায়।
পরিদর্শনের সময় বিরিয়ানিতে হলুদ রঙের ব্যবহারও আধিকারিকদের নজরে আসে। রঙের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দোকান পরিচালকের পক্ষ থেকে একটি রঙের প্যাকেট দেখানো হয়। আধিকারিকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্যাকেটের রঙটি খাদ্যপণ্যে ব্যবহারের উপযোগী ফুড কালারের পরিবর্তে কাপড় রং করার কাজে ব্যবহৃত শিল্পজাত রঙ হতে পারে। তবে রঙটির প্রকৃত স্বরূপ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
দোকানের অন্য একটি অংশে উপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই বেশ কয়েক দিন ধরে ছাড়ানো রসুন রাখা ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং দোকানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দোকান মালিককে কড়া সতর্ক করা হয়।
অভিযানের সময় দোকানের ফুড লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি এবং খাদ্য রঙ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একাধিক ত্রুটি আধিকারিকদের নজরে আসে।
ফুড সেফটি দফতরের আধিকারিকরা দোকান থেকে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। বৈধ ফুড লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত এবং খাবার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দোকানের মালিক ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনে দোকান পরিচালনার বিষয়ে আধিকারিকদের আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে অভিযানে উঠে আসা অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা খাদ্যসামগ্রীর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরই নিশ্চিত হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA

