Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
"জন্মাষ্টমীর ইতিহাস ও বাংলার কৃষ্ণসংস্কৃতি: চণ্ডীদাস থেকে চৈতন্য, কীর্তন থেকে গোপাল-উৎসব"

"জন্মাষ্টমীর ইতিহাস ও বাংলার কৃষ্ণসংস্কৃতি: চণ্ডীদাস থেকে চৈতন্য, কীর্তন থেকে গোপাল-উৎসব"

বিশেষ প্রতিবেদন | অন্তরা ত্রিপাঠী | IBG NEWS BANGLA

শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী ভারতীয় ধর্ম-সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। কিন্তু বাংলায় এই উৎসবের অর্থ কেবল একটি ধর্মীয় তিথি পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কয়েক শতাব্দী ধরে শ্রীকৃষ্ণকে ঘিরে গড়ে ওঠা গৌড়ীয় বৈষ্ণব ভাবধারা, পদাবলি সাহিত্য, কীর্তন, রাস-সংস্কৃতি, দোল-ঝুলন, মন্দির-উৎসব এবং কৃষ্ণভক্তির লোকায়ত রূপ জন্মাষ্টমীকে বাংলার সাংস্কৃতিক স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে।

(Banglapedia)

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির নিশীথে মথুরার কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের সন্তান হিসেবে কৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। পরবর্তী কালে এই জন্মকাহিনি শুধু পুরাণের আখ্যান হয়ে থাকেনি; বাংলা ভাষা, সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকলার পাশাপাশি সামাজিক ও লোকসংস্কৃতিতেও তার গভীর ছাপ পড়েছে। (Banglapedia)

জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় ভিত্তি প্রধানত কৃষ্ণকেন্দ্রিক পুরাণ-ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের দশম স্কন্ধে কৃষ্ণের জন্ম, শৈশব ও ব্রজলীলা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে কংসের অত্যাচার, দেবকী-বসুদেবের বন্দিত্ব এবং নিশীথে কৃষ্ণের আবির্ভাবের কাহিনি রয়েছে। পুরাণের আখ্যান অনুযায়ী, জন্মের পর বসুদেব শিশুকৃষ্ণকে যমুনা পার করে গোকুলে নন্দ-যশোদার কাছে নিয়ে যান। (OUP Academic)

এই আখ্যানের সঙ্গে ভগবদ্গীতার অবতারতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক যোগ রয়েছে। গীতার চতুর্থ অধ্যায়ে কৃষ্ণ ধর্মের অবক্ষয় ও অধর্মের উত্থানের সময় তাঁর আবির্ভাবের কথা বলেছেন। ফলে জন্মাষ্টমী ভক্তদের কাছে শুধু জন্মস্মরণ নয়; ধর্ম, ন্যায় ও নৈতিক ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবেও ব্যাখ্যাত হয়। (Vidhyamitra)

তবে এখানে একটি ঐতিহাসিক সতর্কতা জরুরি। কৃষ্ণের জন্মকাহিনি ধর্মীয় ও পুরাণিক ঐতিহ্যের অংশ; কৃষ্ণের ঐতিহাসিক অস্তিত্ব বা তাঁর জীবনের নির্দিষ্ট ঘটনাগুলির প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক প্রমাণ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বাংলাপিডিয়াও কৃষ্ণের ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে এই মতভেদের কথা উল্লেখ করেছে। (Banglapedia)

বাংলায় কৃষ্ণভক্তির ইতিহাসকে শুধুমাত্র চৈতন্যদেবের সময় থেকে শুরু করলে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বপর্ব বাদ পড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা যায়, চৈতন্য-পূর্ব বাংলাতেই রাধা-কৃষ্ণকেন্দ্রিক কাব্য ও গীতির একটি শক্তিশালী ধারা গড়ে উঠেছিল। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, যাকে সাধারণত চতুর্দশ শতকের রচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুঁথিটি বিশ শতকের গোড়ায় বাঁকুড়া অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয়। (Banglapedia)

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন কাব্য এবং এর কেন্দ্রে রয়েছে রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্ক, প্রেম, বিরহ ও মানবিক আবেগ। অর্থাৎ কৃষ্ণ তখনই বাংলার সাহিত্যিক কল্পনায় কেবল দূরবর্তী দেবতা নন-তিনি প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, বিরহ ও মানবিক অনুভূতিরও প্রতীক হয়ে উঠছিলেন। (Banglapedia)

বাংলার কৃষ্ণসংস্কৃতির ইতিহাসে জয়দেবের গীতগোবিন্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূত্র। দ্বাদশ শতকের এই সংস্কৃত কাব্য রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তির নান্দনিক প্রকাশকে নতুন মাত্রা দেয়। পরবর্তীতে বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন সেই কৃষ্ণভাবনাকে বাংলা ভাষার নিজস্ব সাহিত্যিক পরিসরে নিয়ে আসে। (Banglapedia)

এরপর বিদ্যাপতির রাধাকৃষ্ণের পদ, ব্রজবুলি ভাষার বিকাশ এবং বাংলার নিজস্ব পদাবলি পরম্পরা কৃষ্ণভক্তিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং স্থানীয় ভাষা ও কীর্তন-পরিবেশনার প্রভাবে ব্রজবুলি বৈষ্ণব পদভাষার একটি স্বতন্ত্র রূপ তৈরি হয়। (Banglapedia)

এই সাহিত্যিক উত্তরাধিকার পরবর্তীকালে জন্মাষ্টমীসহ কৃষ্ণকেন্দ্রিক বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আবেগ, সংগীত ও পরিবেশনার ভাষা নির্মাণে সহায়তা করে।

শ্রীচৈতন্য (১৪৮৬-১৫৩৩)-এর আবির্ভাব বাংলার কৃষ্ণভক্তির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। নদিয়ার নবদ্বীপকে কেন্দ্র করে তাঁর ভক্তি-আন্দোলন কৃষ্ণের নাম, রাধাকৃষ্ণের প্রেম এবং সমবেত কীর্তনকে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে। (Banglapedia)

চৈতন্যের আগে বাংলায় বৈষ্ণব ঐতিহ্য ছিল-এ কথা গবেষণায় স্পষ্ট। তাই চৈতন্যকে বাংলায় কৃষ্ণভক্তির একমাত্র সূচনাকারী না বলে বিদ্যমান বৈষ্ণব ও কৃষ্ণকেন্দ্রিক ধারাকে নতুন সামাজিক, সংগীতিক ও আবেগময় শক্তি দেওয়া এক প্রধান ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত। অক্সফোর্ডের গবেষণাতেও চৈতন্যীয় বা গৌড়ীয় বৈষ্ণবতাকে বাংলার বৈষ্ণবতার একটি প্রধান ধারা হিসেবে দেখা হয়েছে, সম্পূর্ণ সমার্থক হিসেবে নয়। (OUP Academic)

চৈতন্য-পর্বে নামসংকীর্তন ও নগরকীর্তন বিশেষ গুরুত্ব পায়। ধর্মীয় অনুভূতি ব্যক্তিগত সাধনার গণ্ডি ছাড়িয়ে সমবেত গান, নৃত্য ও জনসমাগমের রূপ নিতে থাকে। বাংলাপিডিয়া কীর্তনের দুটি প্রধান রূপ-নামকীর্তন এবং লীলাকীর্তনের কথা উল্লেখ করেছে। (Banglapedia)

বাংলার জন্মাষ্টমী সংস্কৃতির একটি বৈশিষ্ট্য হল-এখানে কৃষ্ণকে শুধু মথুরার অত্যাচারবিরোধী নায়ক বা মহাভারতের রথী হিসেবে দেখা হয় না। বৈষ্ণব কাব্য ও কীর্তনের প্রভাবে তিনি হয়ে ওঠেন ব্রজের বালক, গোপাল, বাঁশিওয়ালা, রাধার প্রিয় এবং ভক্তের অন্তরঙ্গ ঈশ্বর

এই রূপান্তর বাংলা সাহিত্য ও শিল্পে অত্যন্ত শক্তিশালী। বাংলাপিডিয়ার মতে, রাধাকৃষ্ণের প্রেমকাহিনি পদাবলি কীর্তন, পালাগান ও বিচ্ছেদী গানের মতো বিভিন্ন লোকসঙ্গীত ধারাতেও গভীরভাবে প্রবেশ করেছে। (Banglapedia)

অর্থাৎ জন্মাষ্টমীর রাতে যখন বাংলার কোনও গৃহে ছোট্ট গোপালের মূর্তি দোলনায় বসানো হয়, কিংবা কীর্তনের আসরে কৃষ্ণের জন্মলীলা গাওয়া হয়, তখন তার পেছনে শুধু পুরাণ নয়-শতাব্দী-প্রাচীন সাহিত্য ও সংগীতের উত্তরাধিকারও কাজ করে।

বাংলায় জন্মাষ্টমীর সঙ্গে কীর্তনের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নামসংকীর্তনে কৃষ্ণ বা হরিনামের পুনরাবৃত্তি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই লীলাকীর্তন বা পদাবলি কীর্তনে কৃষ্ণের জীবন, রাধার বিরহ, ব্রজের লীলা ও ভক্তির বিভিন্ন আবেগ গীত হয়। (Banglapedia)

চৈতন্যীয় ভক্তিধারায় কীর্তন কেবল গান ছিল না-এটি ছিল সমবেত আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। ঢোল, করতাল, কণ্ঠসংগীত, নৃত্য এবং শ্রোতা-গায়কের আবেগময় অংশগ্রহণ মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক পরিবেশ তৈরি করত।

এই কারণেই বাংলার কৃষ্ণসংস্কৃতিকে বোঝার ক্ষেত্রে জন্মাষ্টমীর সঙ্গে পদাবলি, কীর্তন ও ভক্তি-সাহিত্যকে আলাদা করে দেখা যায় না।

নদিয়ার নবদ্বীপ বাংলার কৃষ্ণভক্তির ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। চৈতন্যদেবের জন্ম ও প্রাথমিক ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই অঞ্চল প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নদিয়া জেলার সরকারি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক তথ্যেও বলা হয়েছে, চৈতন্যের প্রভাবে কৃষ্ণভক্তিকে কেন্দ্র করে নদিয়ায় রথযাত্রা, দোলযাত্রা, ঝুলনযাত্রা, রাসযাত্রা, গোশ্ঠাষ্টমী এবং জন্মাষ্টমীর মতো বিভিন্ন উৎসবের বিকাশ ঘটে। (Nadia District)

আজও নবদ্বীপ-মায়াপুর অঞ্চলের ধর্মীয় ক্যালেন্ডারে জন্মাষ্টমী একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। গৌড়ীয় বৈষ্ণব পরম্পরার ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারেও ৪ সেপ্টেম্বর কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী এবং ৫ সেপ্টেম্বর নন্দোৎসব পালনের উল্লেখ রয়েছে। (Sri Chaitanya Saraswat Math)

বাংলার বহু পরিবার ও মন্দিরে জন্মাষ্টমীর প্রধান আচার রাতের দিকে সম্পন্ন হয়। এর পেছনে পুরাণিক জন্মকাহিনির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে-কৃষ্ণের জন্মকে নিশীথ বা গভীর রাতের ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। (The Metropolitan Museum of Art)

তাই সন্ধ্যার পর থেকে পূজা, কীর্তন, ভাগবত পাঠ, কৃষ্ণের জন্মলীলা পাঠ এবং মধ্যরাতের বিশেষ আরতির পরিবেশ তৈরি হয়। শিশুকৃষ্ণের মূর্তিকে স্নান করানো, নতুন পোশাক পরানো, দোলনায় বসানো এবং মাখন-মিছরি, দুধ, দই ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন নিবেদন বাংলার বহু পরিবারের পরিচিত রীতি।

তবে আচার ও উপবাসের নিয়ম সম্প্রদায়, পরিবার, মন্দির ও পঞ্জিকা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে-তাই কোনও একটি রীতিকে সমগ্র বাংলার একমাত্র জন্মাষ্টমী-প্রথা বলা ঠিক হবে না।

বাংলার জন্মাষ্টমী সংস্কৃতির সবচেয়ে আবেগময় দিকগুলির একটি হল বালগোপাল বা লাড্ডু গোপালকে শিশুরূপে কল্পনা করা

এখানে কৃষ্ণের মহাজাগতিক বা দার্শনিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর শৈশবের রূপটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মাখনচুরি, গোপালকে দোলানো, শিশুর পোশাক পরানো, ছোট বাঁশি বা ময়ূরপুচ্ছ দিয়ে সাজানো-এসব আচারে কৃষ্ণকে ঘরের সন্তানের মতো করে দেখার ভক্তিভাব প্রকাশ পায়।

এই 'শিশু-কৃষ্ণ' ভাবনার সাংস্কৃতিক শক্তি বোঝা যায় জন্মাষ্টমীর জনপ্রিয় আচারগুলির মধ্যেও। সাম্প্রতিক বাংলার উৎসবচর্চায় বালগোপালের সাজসজ্জা, দোলনা ও মাখন-মিছরির মতো উপকরণ এখনও উল্লেখযোগ্য। (Indian Express - Bangla)

জন্মাষ্টমীর ভোগও বাংলার আঞ্চলিক খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গেছে। দুধ, দই, মাখন, ফল, ক্ষীর এবং বিভিন্ন মিষ্টান্ন কৃষ্ণভোগে ব্যবহৃত হয়।

বাংলার ঋতুভিত্তিক খাদ্যসংস্কৃতির কারণে জন্মাষ্টমীর ভোগে স্থানীয় উপাদানেরও সংযোজন দেখা যায়। সাম্প্রতিক বাংলার উৎসবচর্চায় তাল, নারকেল, দুধ ও ক্ষীরজাত মিষ্টি জন্মাষ্টমীর সঙ্গে জনপ্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছে। তবে এগুলিকে প্রাচীন বা সর্বজনীন 'শাস্ত্রীয়' জন্মাষ্টমী-ভোগ হিসেবে দাবি করার পরিবর্তে বাংলার আঞ্চলিক খাদ্যরুচির সঙ্গে উৎসবের অভিযোজন হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। (Indian Express - Bangla)

কৃষ্ণের সাংস্কৃতিক প্রভাব কেবল কীর্তনেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার চিত্রকলাতেও রাধাকৃষ্ণ একটি শক্তিশালী বিষয়।

ঊনবিংশ শতকের কলকাতার কালিঘাট শিল্পধারায় রাধা-কৃষ্ণের নানা চিত্র পাওয়া যায়। নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের সংগ্রহে কলকাতার কালিঘাট অঞ্চলে নির্মিত ১৮৫৬ সালের একটি রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক চিত্রের উল্লেখ রয়েছে। মিউজিয়ামের গবেষণা নোটে বলা হয়েছে, রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বাংলার ভক্তিমূলক সাহিত্য ও বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল আর্টে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। (The Metropolitan Museum of Art)

আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল-ঊনবিংশ শতকের কলকাতা থেকেই জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণজন্মের দৃশ্যের মুদ্রিত চিত্রও পাওয়া যায়। মেটের সংগ্রহে প্রায় ১৮৭৮-৮৩ সালের কলকাতা-নির্মিত একটি 'Janmastami' লিথোগ্রাফ রয়েছে, যেখানে বসুদেব শিশুকৃষ্ণকে যমুনা পার করে নিয়ে যাচ্ছেন-এই পুরাণিক দৃশ্যটি চিত্রিত হয়েছে। (The Metropolitan Museum of Art)

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রমাণ: উনিশ শতকের কলকাতায় জন্মাষ্টমী ও কৃষ্ণকাহিনি শুধু মন্দিরের আচার ছিল না; মুদ্রণ, জনপ্রিয় ছবি ও নগর সংস্কৃতিরও অংশ হয়ে উঠেছিল।

কৃষ্ণভাবনা বাংলা সাহিত্যে এত গভীরভাবে প্রবেশ করেছিল যে তার প্রভাব আধুনিক যুগেও দেখা যায়।

বৈষ্ণব পদাবলির ভাষা ও রাধাকৃষ্ণের প্রেমভাব পরবর্তী বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে প্রভাবিত করে। ব্রজবুলি ভাষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রচনাও সেই দীর্ঘ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের আধুনিক পুনর্নির্মাণ হিসেবে পড়া যায়। (Banglapedia)

অর্থাৎ কৃষ্ণভক্তি বাংলায় শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়; এটি বাংলা ভাষার কাব্য, সুর, অলংকার, প্রেমের রূপক ও নান্দনিকতারও একটি দীর্ঘস্থায়ী উৎস।

ঊনিশ শতকের কলকাতায় কৃষ্ণভক্তি, কীর্তন, ছাপা ছবি ও নগরভিত্তিক ধর্মীয় সংস্কৃতির বিস্তার জন্মাষ্টমীকে নতুন সামাজিক দৃশ্যমানতা দেয়। কালিঘাটের চিত্র, জন্মাষ্টমী বিষয়ক লিথোগ্রাফ এবং বৈষ্ণব সংগীতের জনপ্রিয়তা তার সাংস্কৃতিক প্রমাণ বহন করে। (The Metropolitan Museum of Art)

পরবর্তী সময়ে কলকাতার বিভিন্ন পাড়া, মন্দির ও সামাজিক সংগঠন জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও ভক্তিমূলক আয়োজন করতে থাকে।

আজকের কলকাতাতেও এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে, নিউ টাউনের ইসকন কেন্দ্র ২০২৬ সালের জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে মাখন-মিছরি ভোগ, আরতি, পুষ্পাঞ্জলি এবং অন্যান্য ভক্তিমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। (ISKCON -)

বাংলার উৎসবসংস্কৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল ধর্মীয় আচার এবং স্থানীয় সামাজিক জীবনের পারস্পরিক সম্পর্ক।

এই প্রসঙ্গে কলকাতার মোমিনপুরের প্রায় ছয় দশক পুরনো জন্মাষ্টমী উদযাপন একটি সমকালীন ও উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উৎসবের সূচনা প্রায় ছয় দশক আগে মুসলিম সমাজকর্মী মহম্মদ কাশিমের উদ্যোগে হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম ও হিন্দু-দুই সম্প্রদায়ের মানুষ আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালে সেই ঐতিহ্য নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। (The Economic Times)

এই ঘটনাকে সমগ্র বাংলার জন্মাষ্টমীর সাধারণ ইতিহাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু এটি দেখায়, বাংলার নগর-উৎসবের ইতিহাস কখনও কখনও ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করে স্থানীয় সামাজিক সম্পর্ক ও অংশগ্রহণের ইতিহাসও হয়ে উঠেছে।

'বাংলার' জন্মাষ্টমী বলতে শুধু বর্তমান পশ্চিমবঙ্গকে বোঝালে ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকে। অবিভক্ত বঙ্গ এবং বর্তমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরেও জন্মাষ্টমীর দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার ইতিহাস অন্তত ষোড়শ শতকে পৌঁছায়। ১৫৫৫ সালে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রার সূত্রপাত এবং ১৫৬৫ সালে কৃষ্ণজন্ম উপলক্ষে আরও সুসংগঠিত শোভাযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে এই শোভাযাত্রা একটি বড় সামাজিক-ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়। (Banglapedia)

ঔপনিবেশিক যুগে সেই শোভাযাত্রায় হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম দর্শক ও অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির কথাও বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর উৎসবের ঐতিহ্যে বড় পরিবর্তন এলেও ১৯৭১-এর পর ঢাকায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়। (Banglapedia)

এই বৃহত্তর বঙ্গীয় ইতিহাস দেখায় যে জন্মাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; শোভাযাত্রা, লোকনাট্য, সংগীত, চিত্র, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং নগরজীবনেরও অংশ হয়ে উঠেছিল।

বাংলায় জন্মাষ্টমীর দীর্ঘ ইতিহাসকে মোটামুটি পাঁচটি স্তরে দেখা যায়-

১. পুরাণিক স্তর:
কৃষ্ণের জন্ম, কংস, দেবকী-বসুদেব, গোকুল ও ব্রজের কাহিনি।

২. প্রাক-চৈতন্য সাহিত্যিক স্তর:
জয়দেব, বড়ু চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি এবং রাধাকৃষ্ণকেন্দ্রিক পদসাহিত্য।

৩. চৈতন্যীয় ভক্তি স্তর:
নামসংকীর্তন, নগরকীর্তন, রাধাকৃষ্ণপ্রেম এবং সমবেত ভক্তি।

৪. লোক ও নগর সংস্কৃতির স্তর:
কীর্তন, পালাগান, মন্দিরোৎসব, শোভাযাত্রা, পট/কালিঘাট শিল্প ও মুদ্রিত ছবি।

৫. আধুনিক স্তর:
মন্দির, আবাসিক এলাকা, সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্রচার এবং বিশ্বব্যাপী গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান।

এই ধারাবাহিকতা থেকেই বোঝা যায় কেন বাংলায় জন্মাষ্টমী আজও একই সঙ্গে ধর্ম, সাহিত্য, সংগীত, শিল্প, পারিবারিক আবেগ ও সামাজিক স্মৃতির উৎসব

২০২৬ সালে কলকাতার পঞ্জিকা-ভিত্তিক গণনা অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালিত হবে। কলকাতার জন্য গণনায় অষ্টমী তিথি ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে শুরু হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের পর শেষ হওয়ার কথা বলা হয়েছে; নিশীথকালীন পূজার সময়ও স্থানীয় পঞ্জিকা অনুসারে নির্ধারিত। বিভিন্ন বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও পঞ্জিকায় সময় বা পালন-পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। (Drik Panchang)

অর্থাৎ আজকের জন্মাষ্টমী একদিকে বহু শতাব্দীর পুরাণিক ও বৈষ্ণব ঐতিহ্য বহন করছে, অন্যদিকে আধুনিক নগরজীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন রূপও নিচ্ছে।

অবশ্যই। বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্য নিয়ে বাংলা নিবন্ধে উদ্ধৃত করার মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পঙ্‌ক্তি নিচে দিলাম। বানান ও পাঠভেদ আছে-তাই প্রকাশিত লেখায় উদ্ধৃতির সঙ্গে কবি, পদ/পর্যায় এবং পাঠের উৎস উল্লেখ করা ভালো। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস প্রমুখের পদাবলী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। (Banglapedia)

"সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।
কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো,
আকুল করিল মোর প্রাণ॥"

অর্থ:
রাধা সখীর কাছে বিস্ময় প্রকাশ করছেন-কে তাঁকে কৃষ্ণের নাম শুনিয়েছে? সেই নাম কানে প্রবেশ করে তাঁর হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে তাঁকে অস্থির করে দিয়েছে। এখানে কৃষ্ণনাম শ্রবণ থেকেই প্রেমের সূচনা এবং অন্তরের আকুলতা প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসামগ্রীতেও পদটিকে 'শ্রবণজাত পূর্বরাগ'-এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে। (Netaji Subhas Open University)

উৎস: চণ্ডীদাস, বৈষ্ণব পদাবলী, পূর্বরাগ পর্যায়।
পাঠ ও ব্যাখ্যা

"রূপ লাগি আঁখি ঝুরে, গুণে মন ভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।"

অর্থ:
প্রিয়তমের রূপের জন্য চোখ অশ্রুসিক্ত, তাঁর গুণের স্মরণে মন পূর্ণ হয়ে আছে। প্রিয়ের প্রতিটি অঙ্গের আকর্ষণে প্রেমিকার নিজের প্রতিটি অঙ্গ যেন ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। এটি প্রেমের সর্বাঙ্গীন আকর্ষণ ও বিরহ-বেদনার অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকাশ।

দীনেশচন্দ্র সেনের আলোচনাতেও জ্ঞানদাসের এই পদটি উদ্ধৃত হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রেমের পাশাপাশি গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির কথা বলা হয়েছে। (Wikisource)

উৎস: জ্ঞানদাস, বৈষ্ণব পদাবলী।
মূল পাঠের আলোচনা

"মাধব, বহুত মিনতি করি তোয়।
দেই তুলসী তিল দেহ সমর্পিলুঁ,
দয়া জনু ছোড়বি মোয়॥"

অর্থ:
হে মাধব, তোমার কাছে আমার বহু আকুল প্রার্থনা। তুলসী ও তিলের মতো সামান্য নিবেদনের সঙ্গে আমি আমার সমগ্র দেহ-সত্তা তোমার কাছে সমর্পণ করছি; তুমি যেন আমাকে পরিত্যাগ না করো।

এখানে ভক্তির আত্মসমর্পণ, করুণার আবেদন এবং ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরতা প্রকাশ পেয়েছে। (Bangla Guide)

উৎস: বিদ্যাপতি, "মাধব বহুত মিনতি করি তোয়", প্রার্থনা পর্যায়।
পদের পাঠ ও ব্যাখ্যা

"তাতল সৈকত বারি বিন্দুসম
সুত-মিত-রমণী সমাজে।"

অর্থ:
উত্তপ্ত বালুকাবেলায় এক ফোঁটা জল যেমন মুহূর্তে শুকিয়ে যায়, সংসারের সম্পর্কের মধ্যে মানুষের জীবনও তেমনই ক্ষণস্থায়ী। কবি এই উপমার মাধ্যমে জীবনের অনিত্যতা ও ঈশ্বরের আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। (Bangla Guide)

এই পদের শেষে বিদ্যাপতির আত্মসমর্পণের সুর আরও স্পষ্ট হয়-জীবনের শেষ পরিণতিতে ঈশ্বরই তাঁর একমাত্র আশ্রয়।

উৎস: বিদ্যাপতি, "তাতল সৈকত বারি বিন্দুসম", নিবেদন পর্যায়।
পদের সম্পূর্ণ পাঠ ও অর্থ

"কন্টক গাড়ি কমল সম পদতল,
মঞ্জীর চীয়হি ঝাঁপি।"

অর্থ:
রাধার পদতল পদ্মের মতো কোমল, অথচ প্রিয় কৃষ্ণের সঙ্গে মিলনের আকাঙ্ক্ষায় তাঁকে কাঁটায় ভরা পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। নিজের পায়ের নূপুরের শব্দও তিনি আড়াল করতে চাইছেন, যাতে তাঁর গোপন অভিসার প্রকাশ না পায়।

এখানে প্রেমের জন্য বিপদ ও কষ্টকে উপেক্ষা করা এবং গোপন অভিসারের নাটকীয়তা অত্যন্ত জীবন্ত হয়ে উঠেছে। পদটি গোবিন্দদাসের 'অভিসার' পর্যায়ের পদ হিসেবে পাঠ্যসূত্রেও উল্লেখিত। (E-Bangla Library)

"দেখিতে দেখিতে না চিনিয়ে কাল কিম্বা গোরা।"

অর্থ:
কৃষ্ণের রূপের এমন গভীর আকর্ষণ যে তাঁকে দেখতে দেখতে দর্শকের নিজের বিচারবোধ পর্যন্ত যেন হারিয়ে যায়-তিনি কৃষ্ণবর্ণ না গৌরবর্ণ, সেই পার্থক্যও স্পষ্ট থাকে না। দীনেশচন্দ্র সেন এই পঙ্‌ক্তিটির রূপগত ও ভাবগত তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর পাঠ-ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মতের কথাও উল্লেখ করেছেন। (Wikisource)

নোট: এই পঙ্‌ক্তিটির ব্যাখ্যা ও পাঠ নিয়ে মতভেদ থাকায় একে ব্যবহার করলে "চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত পদ" বলা অধিক সতর্কতাপূর্ণ।

"তুয়া পদ-পল্লব করি অবলম্বন,
তিল এক দেহ দীনবন্ধু॥"

অর্থ:
হে দীনবন্ধু, তোমার পদপল্লবকেই আমি আমার একমাত্র আশ্রয় করেছি। নিজের অস্তিত্বের সামান্যতম অংশও তোমার আশ্রয় ছাড়া নিরাপদ নয়-এই সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ভাব এখানে প্রকাশিত।

এটি বিদ্যাপতির ভক্তিমূলক পদাবলীর শরণাগতি ও ঈশ্বরনির্ভরতার অন্যতম সুন্দর প্রকাশ। (E-Bangla Library)

আপনার IBG NEWS BANGLA-র জনমাষ্টমী/বঙ্গের পদাবলী সাহিত্য বিষয়ক নিবন্ধে যদি খুব বেশি উদ্ধৃতি না দিয়ে গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য দেখাতে চান, আমি এই তিনটি বেছে নেব:

প্রেমের সূচনা:

"সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।
কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো,
আকুল করিল মোর প্রাণ॥" - চণ্ডীদাস

প্রেম-বিরহের গভীরতা:

"রূপ লাগি আঁখি ঝুরে, গুণে মন ভোর…" - জ্ঞানদাস

ভক্তি ও আত্মসমর্পণ:

"মাধব, বহুত মিনতি করি তোয়…" - বিদ্যাপতি

এই তিনটি একসঙ্গে ব্যবহার করলে শ্রবণ → প্রেম → বিরহ → ভক্তি/আত্মসমর্পণ-বৈষ্ণব পদাবলীর আবেগের একটি সুন্দর ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। বৈষ্ণব পদাবলী বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতি এর অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে স্বীকৃত। (Banglapedia)

গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় সতর্কতা: পদাবলী সাহিত্যে প্রাচীন পুঁথি ও পরবর্তী মুদ্রিত সংকলনে পাঠ ও কবির নাম নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন, "সুখের লাগিয়া এ ঘর করিনু…" পদটির ভণিতা চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস-উভয়ের নামেই বিভিন্ন পুঁথিতে পাওয়া যায় বলে দীনেশচন্দ্র সেন উল্লেখ করেছেন। (Wikisource) তাই IBG NEWS-এর গবেষণামূলক নিবন্ধে যেখানে প্রয়োজন, "প্রচলিত পাঠ" বা "অমুক কবির নামে প্রচলিত"-এই ধরনের সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা ভালো।

বাংলায় জন্মাষ্টমীর ইতিহাস আসলে কৃষ্ণের জন্মকাহিনির ইতিহাসের চেয়েও বড়

এটি এমন এক সাংস্কৃতিক যাত্রা যেখানে পুরাণের কৃষ্ণ বাংলা ভাষায় এসে হয়ে ওঠেন চণ্ডীদাসের প্রেমের কৃষ্ণ, চৈতন্যের ভক্তির কৃষ্ণ, কীর্তনশিল্পীর গানের কৃষ্ণ, পদাবলির বিরহের কৃষ্ণ, কালিঘাটের ছবির কৃষ্ণ এবং বাঙালি পরিবারের দোলনায় শুয়ে থাকা ছোট্ট গোপাল।

চৈতন্যীয় বৈষ্ণবধারা এই উত্তরাধিকারকে প্রবল গতি দিলেও বাংলায় কৃষ্ণসংস্কৃতির শিকড় তারও আগে পৌঁছে যায়। আর সেই দীর্ঘ সাংস্কৃতিক অভিযোজনের ফলেই জন্মাষ্টমী বাংলায় শুধুমাত্র 'কৃষ্ণের জন্মদিন' নয়-এটি হয়ে উঠেছে ভক্তি, সাহিত্য, সংগীত, শিল্প, পারিবারিক অনুভূতি এবং বাঙালির ঐতিহাসিক স্মৃতির এক সম্মিলিত উৎসব। (Banglapedia)

লেখা: অন্তরা ত্রিপাঠী | IBG NEWS BANGLA

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: IBG News Bangla