Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
সপ্তাহের কর্মদিবসে রাস্তা দখল করে রাজনৈতিক সভা-মিছিল বন্ধ হওয়া উচিত

সপ্তাহের কর্মদিবসে রাস্তা দখল করে রাজনৈতিক সভা-মিছিল বন্ধ হওয়া উচিত

প্রধান সম্পাদক, IBG NEWSসাধারণ সম্পাদক, AIRA (International Reporters Association)

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সভা, মিছিল ও জনসমাবেশ নাগরিক অধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক দলগুলি তাদের মতাদর্শ প্রচার করবে, সরকারের সমালোচনা করবে, জনগণের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে-এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কতটা ব্যাহত করা যেতে পারে?

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সভা-মিছিলের সংস্কৃতি রয়েছে। বিশেষত কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কর্মদিবসে বড় রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, যানজট সৃষ্টি হয় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। বর্তমান সময়ে যখন অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নগর পরিচালনার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তখন এই পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন করে মূল্যায়নের সময় এসেছে।

একটি বড় রাজনৈতিক সভা বা মিছিলের কারণে শহরের প্রধান সড়কগুলি কয়েক ঘণ্টার জন্য কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অফিসগামী কর্মচারী, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ডেলিভারি কর্মী, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী-সবাই এর প্রভাব অনুভব করেন।

যদি একটি শহরে কয়েক লক্ষ মানুষ অতিরিক্ত এক থেকে দুই ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকেন, তাহলে উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টার বিপুল ক্ষতি হয়। এর প্রভাব সরাসরি রাজ্যের অর্থনীতির উপর পড়ে। বেসরকারি সংস্থাগুলি সময়ানুবর্তিতার উপর নির্ভর করে, এবং বারবার এই ধরনের বিঘ্ন বিনিয়োগকারীদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা পাঠায়।

পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে শিল্প ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই কর্মদিবসে রাজনৈতিক কারণে শহর অচল করার সংস্কৃতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে দুর্বল করে।

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের যেমন সভা করার অধিকার রয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষেরও নির্বিঘ্নে চলাফেরা, কর্মস্থলে পৌঁছানো, হাসপাতালে যাওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অধিকার রয়েছে।

প্রায়শই দেখা যায়, রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়ে, পরীক্ষার্থী দেরিতে পৌঁছায়, রোগী ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি বাড়ে। একজন দিনমজুরের কাছে কয়েক ঘণ্টার কাজ হারানো মানে পরিবারের আয়ের সরাসরি ক্ষতি।

সুতরাং প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকারও রক্ষা করা।

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বহু দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই বিশাল খোলা মাঠ লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ধারণ করতে সক্ষম।

যদি সরকার নীতি গ্রহণ করে যে বৃহৎ রাজনৈতিক সভা, জনসভা ও শক্তিপ্রদর্শনমূলক সমাবেশ শুধুমাত্র ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বা নির্দিষ্ট বৃহৎ ময়দান এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে, তাহলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে-

১. প্রধান সড়কগুলিতে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

২. প্রশাসন ও পুলিশ আরও দক্ষতার সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে পারবে।

৩. সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কম ব্যাহত হবে।

৪. রাজনৈতিক দলগুলিও বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল সমাবেশ আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামো পাবে।

৫. জরুরি পরিষেবাগুলির উপর চাপ কমবে।

বিশ্বের অনেক বড় শহরে রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও জনসমাবেশের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারিত থাকে। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় থাকে, আবার নগরজীবনও পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে না।

আধুনিক নগর প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হল নাগরিক অধিকার ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। পশ্চিমবঙ্গও সেই পথে এগোতে পারে।

যদি রাজনৈতিক দলগুলি বৃহৎ জনসমাবেশ করতে চায়, তাহলে সপ্তাহান্তে বা সরকারি ছুটির দিনে তা আয়োজন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে কর্মজীবী মানুষের উপর চাপ কমবে এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্যও যাতায়াত তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

ডিজিটাল যুগে ভার্চুয়াল প্রচার, লাইভ স্ট্রিমিং এবং সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফলে রাস্তা অবরোধ করাই আর রাজনৈতিক যোগাযোগের একমাত্র উপায় নয়।

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অপরিহার্য, কিন্তু তা কখনও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অযথা বিপর্যস্ত করার কারণ হওয়া উচিত নয়। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, নগর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে কর্মদিবসে প্রধান সড়কে বৃহৎ রাজনৈতিক সভা-মিছিলের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে।

সরকার যদি সব বড় রাজনৈতিক সমাবেশকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বা নির্দিষ্ট বৃহৎ সভাস্থলে সীমাবদ্ধ করার নীতি গ্রহণ করে, তবে তা রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও জনস্বার্থ-উভয়ের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। উন্নয়নমুখী, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব পশ্চিমবঙ্গ গঠনের জন্য এই ধরনের সংস্কার নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: IBG News Bangla