Sunday, 15 Apr, 5.55 am INCEP NOW

হোম
এ গাজন শিবের নয় কালীর

কুন্তল রায়-

কুন্তল রায়-

চৈত্রের সংক্রান্তিতে শিবের গাজনের কথাতো সবারই জানা। শিবের উপাসনাতেই মেতে ওঠে গ্রামবাংলার মানুষ। তবে বর্ধমানের মন্তেশ্বরের গ্রামের ছবিটা উল্টো। এখানে গাজন উত্‍সব মানে কালীর আরাধনা। তাতেও আবার উল্টো ছবি। কালী কোনও মূর্তি নয়, মানুষই কালীর সাজে সেজে থাকেন। তাঁকে ঘিরেই চলে পূজা অর্চনা। প্রায় ৪০০ বছর ধরে এটাই রীতি। কালীর গাজনকে কেন্দ্র করেই মাতোয়ারা পূর্ব বর্ধমানের পাতুন গ্রাম। উত্‍সবে সামিল দাউকাডাঙ্গা, ধেনুয়া, সাহাপুর, আসানপুরসহ পাশাপাশি গ্রামের মানুষ।
নেই কোনও কালী মন্দির, গ্রামে ঘুরে ঘুরেই চলে গাজনের নাচ। আর ‌যেহেতু কালীর উপাসনা তাই পুজো হয় রাত জেগেই। কখন কোন গ্রাম থেকে গাজনের দল এসে হাজির হবে তার অপেক্ষায় থাকে আশেপাশের গোটা গ্রাম। মাঝ রাতে রে রে করে মা কালীর আবির্ভাব ছোট বাচ্চাদের কাছে এক ভয়েরও কারণ। ‌যদিও বছর শেষের এই মজা উপভোগ করেন সবাই। বছরের পর বছর ধরে এই ধারা বজায় রেখেছেন পাতুন গ্রামের সাঁতরা পরিবার। সাঁতরা পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ কালীর মুখোশ পড়ে কালী সাজতে পারেননা। এই মুখোশও রাখা থাকে ওই পরিবারেই। করা হয় নিত্য পুজো। গ্রামের বাকি পরিবারের সদস্যরা সাজেন কালীর চ্যালাচামুণ্ডা আর শিব। মুখোশ পড়েই হয় নাচ গান সাধন ভজন।

ঢাক কাঁসর ঘণ্টার আওয়াজে রাত জাগে গোটা গ্রাম।
প্রায় ২০ বছর ধরে কালী সাজছেন সাঁতরা পরিবারের সিধু সাঁতরা। তিনি বলেন মুখোশ পড়ার পর কোনও একজন ব্যক্তিকে কালীর কোমড় ধরে রাখতে হয়। তাঁর কথায় কালী মানেই মহিমা তাই ঠাকুরকে ধরে রাখতে হয়, নাহলে প্রকৃত ঠাকুরটাই জলে চলে ‌যাবে। এটাই বিশ্বাস। এই বিশ্বাসে ভড় করেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে কালী সাধনা।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: INCEP NOW
Top