সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত আমরা ভারতীয়রা আজ ভীষণ ভাবে প্যাকেটজাত নানান রকম বাজারচলতি খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছি। বিস্কুট, কর্নফ্লেক্স, মুয়েসলি, সিরিয়াল, কৃত্রিম ঠান্ডা পানীয়, হেলথ ড্রিংকস থেকে শুরু করে ইনস্ট্যান্ট খাবার, সমস্ত রকম প্যাকেটজাত খাবারে স্বাদ বাড়াতে অতিরিক্ত পরিমাণে কৃত্রিম ফ্লেভার, অ্যাডিটিভ ও রঙ মেশানো হচ্ছে।
এসব জিনিসে অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে ঢুকছে বলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে নানান বয়সের মানুষ। ভারতের বাজারে মেলা ২৩ হাজার রকমের প্যাকেটজাত পণ্য ও পানীয়কে পরীক্ষা করে দেখা হয়।
এই গবেষণা চালায় Natfirst নামক সংস্থা ও তার কনজিউমার নিউট্রিশন প্লাটফর্ম TruthIn। ২৫টি ক্যাটাগরির ২৩ হাজার রকমের প্যাকেটজাত পণ্য ও পানীয় পরীক্ষা করে দেখা হয় এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির টুলের সাহায্যে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা খায় এমন একাধিক প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে কৃত্রিম অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়েছে। ৮০% এর বেশি প্যাকেটজাত বিস্কুট ও কুকিজে কৃত্রিম শর্করা, রঙ, ফ্লেভার ও শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর পাম অয়েল ব্যবহার করা হয়েছে।
সকালের জলখাবারে খাওয়া হয় এমন ৬০-৭০% খাবারে কৃত্রিম অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়েছে। ৮০% নোনতা মুখরোচক ভাজাভুজি খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম রয়েছে। ৮০% চকোলেট ও মিষ্টান্নতে অতিরিক্ত পরিমাণে শর্করা ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে। দুগ্ধজাত রেডি টু ইট ৭৮% পানীয়তে অতিরিক্ত পরিমাণে শর্করা দেওয়া আছে। ৯৮% কৃত্রিম পানীয় ও হেলথ ড্রিংকসে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্ষতিকর অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়েছে। ৯০% রেডি টু ইট খাবারে প্রচুর পরিমাণে নুন ব্যবহার করা হয়েছে। ৯৬% রেডি টু ইট চটজলদি খাবারে কৃত্রিম অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে গ্রাম হোক কিংবা শহরে প্রতিটি বাড়িতেই প্যাকেটজাত বাজারচলতি খাবার ও পানীয়র ব্যবহার বেড়ে গেছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশনের করা গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৫.৪% ক্রেতা খাবারের লেবেল, এক্সপায়ারি ডেট দেখেন। মাত্র ১৪.৭% ক্রেতা খাবারের উপাদানের দিকে নজর দেন।

