Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
বিপদ বাড়ছে ভারতে? নেপালের বন্যার জল কি ঢুকবে! গণ্ডক-নারায়ণীর দিকে কড়া নজর, সীমান্তের দুই জেলায় হাই অ্যালার্ট

বিপদ বাড়ছে ভারতে? নেপালের বন্যার জল কি ঢুকবে! গণ্ডক-নারায়ণীর দিকে কড়া নজর, সীমান্তের দুই জেলায় হাই অ্যালার্ট

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের অভিঘাত এ বার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। নেপাল থেকে নেমে আসা নদীগুলির জলপ্রবাহ আচমকা বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায়। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে উত্তরপ্রদেশের নেপাল সীমান্তবর্তী মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগারে বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা।

বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে গণ্ডক নদী এবং নেপাল থেকে নেমে আসা অন্যান্য নদীর জলস্তর।

কেন গণ্ডক নিয়ে এত চিন্তা?

হিমালয় থেকে নেমে আসা একাধিক নদী নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম গণ্ডক, যা নেপালে নারায়ণী নামে পরিচিত। নেপালের উজানে অতিবৃষ্টি বা বন্যার কারণে নদীতে জলপ্রবাহ বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে ভারতের গণ্ডক অববাহিকায়।

- বিজ্ঞাপন -

এই কারণেই মহারাজগঞ্জে নদীর পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকরা। নদীর কাছাকাছি এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।

কুশীনগরেও নজরদারি

কুশীনগরেও নদীর পাড়ের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ ভাবে নজরে রয়েছে ভাল্মীকিনগর ব্যারাজ। নদীর জলস্তর এবং ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর কাছাকাছি বা নিচু এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে নদীর পাড়ের দুর্বল অংশগুলির অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ জলপ্রবাহ দ্রুত বাড়লে নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

আগে থেকেই সতর্ক করেছিল কেন্দ্র

নেপালের বন্যার পর গণ্ডক নদীর জলপ্রবাহ নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় জল কমিশন। উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি বিহারের গণ্ডক অববাহিকার জেলাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে পরিস্থিতি সব জায়গায় একই রকম নয়। বিহারে গণ্ডকের জলপ্রবাহ বুধবারের তুলনায় কমেছে বলে সরকারি সম্প্রচারে জানানো হয়েছে। ফলে সেখানে আপাতত বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবু সতর্কতা হিসেবে গণ্ডক-প্রভাবিত আটটি জেলাকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।

প্রস্তুত উদ্ধারকারী দলও

জলস্তর বাড়লে যাতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করা যায়, তার জন্য উত্তরপ্রদেশে SDRF ও PAC-এর সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির পাশাপাশি মহারাজগঞ্জ, গোরক্ষপুর-সহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

শুধু নদীর জলস্তর নয়, নেপাল থেকে জল ছাড়ার তথ্যও যাতে দ্রুত পাওয়া যায়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কারণ জলপ্রবাহের আগাম তথ্য হাতে থাকলে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

আপাতত নজর নেপালের দিকেই

নেপালের ভয়াবহ বন্যা সরাসরি ভারতের সব এলাকায় বিপদ ডেকে আনবে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার জেরে নদীগুলির জলপ্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গেলে তার প্রভাব সীমান্তের ওপারের সমতল এলাকাতেও পড়তে পারে।

তাই আপাতত নেপালের পরিস্থিতি, গণ্ডক-নারায়ণী নদীর জলস্তর এবং ভাল্মীকিনগর ব্যারাজ—এই তিনটির উপরই কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তন হলেও দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী বাহিনী।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Khabar Online