পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের আনন্দপুর হাইস্কুল গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দেন। সভামঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তিনি ...
By Suparna Parui
Published: April 12, 2026 6:12 PM
পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের আনন্দপুর হাইস্কুল গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দেন।
সভামঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তিনি সিপিএম ও বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, কেশপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জনসমর্থনের শক্তির কারণেই এই অঞ্চলে বিরোধী শক্তি কখনোই স্থায়ীভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক আবেগ, আত্মবিশ্বাস এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যতদিন কেশপুর আছে, ততদিন সিপিএম-বিজেপির জল্লাদ গোটা পশ্চিম মেদিনীপুরে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।" তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায় সমর্থকদের মধ্যে। তিনি আরও দাবি করেন, কেশপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার সাক্ষী থেকেছে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তারা এখন উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের প্রধান কারণ।
তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও বলেন, "২০২৬ সালে এই কেশপুর বিজেপির শেষপুর।" এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিষেকের বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তৃণমূল কংগ্রেস আসন্ন নির্বাচনে কেশপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে ধরে রাখতে চায় এবং সেখানে বিরোধীদের কোনো সুযোগ দিতে নারাজ।
সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নকে তিনি সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সিপিএম ও বিজেপি অতীতে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, তা থেকে মানুষ এখন মুক্তি চায়। তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষ এখন উন্নয়ন, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পক্ষে রায় দিচ্ছে। কেশপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। অতীতে এই অঞ্চল রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জন্য পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ ও উন্নয়নমূলক কাজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে মানুষ এখন পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে নতুন দিশা খুঁজছে।
হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।
খবরের বাজারে বদলের হাওয়া
Follow Us On
© 2026 Copyright By Kolkata24x7 | All rights reserved.

