Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একসময় ডিপথেরিয়া ছিল অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর শিশুরোগগুলোর একটি। টিকা আবিষ্কারের আগে এই রোগে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হত। পরে দীর্ঘ সময় রোগটি এতটাই বিরল হয়ে যায় যে অনেক চিকিৎসকও বাস্তবে কোনো রোগী দেখেননি(Australia Disease)।
অস্ট্রেলিয়ায় ডিপথেরিয়ার সংক্রমণ (Australia Disease)
কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ডিপথেরিয়ার ২৩০টির বেশি সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যার বেশিরভাগই নর্দার্ন টেরিটরিতে। এটিকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডিপথেরিয়া প্রাদুর্ভাব বলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ৭.২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
মাথাচাড়া দিচ্ছে পুরনো রোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডিপথেরিয়াই নয়, হাম, হুপিং কাশি ও সিফিলিসের মতো পুরনো রোগও আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। এর পেছনে বড় কারণ টিকাদানের হার কমে যাওয়া। ২০২৪ সালে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের পূর্ণ টিকাদানের হার ৯০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হুপিং কাশির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা
হুপিং কাশির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৭ হাজারের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বোচ্চ। কোভিড বিধিনিষেধের সময় মানুষের স্বাভাবিক সংস্পর্শ কমে যাওয়ায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
হামের সংক্রমণ বাড়ছে
অন্যদিকে, হামের সংক্রমণও বাড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে প্রায় ১০০টি হামের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। অধিকাংশ আক্রান্ত ছিলেন টিকা না নেওয়া মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা দরকার, কিন্তু বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় সেই হার কমছে।
সিফিলিসেরও উদ্বেগ বাড়ছে (Australia Disease)
সিফিলিসের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়ছে। গত এক দশকে সংক্রমণের হার তিনগুণের বেশি বেড়েছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, গর্ভবতী মা থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে নবজাতকের মৃত্যুও ঘটছে।
Recovered Najimul: ১৫ বছর ওপার বাংলার রাস্তায়, অবশেষে মায়ের কোলে নাজিমুল
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা (Australia Disease)
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, টিকা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন ও দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা দুর্বল হলে পুরনো সংক্রামক রোগ খুব দ্রুতই ফিরে আসতে পারে।

