Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Cucurella Spain: মাঠের লড়াইয়ের আড়ালে নীরব বাবা কুকুরেয়ার গল্প

Cucurella Spain: মাঠের লড়াইয়ের আড়ালে নীরব বাবা কুকুরেয়ার গল্প

KTV Bangla 1 week ago

Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit

কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বকাপজুড়ে নক্ষত্রদের ছড়াছড়ি। কিন্তু সকলকে ছাপিয়ে শিরোনাম জুড়ে শুধুই মার্ক কুকুরেয়া (Cucurella Spain)। লিওনেল মেসির মত জাদুকরের জাদু তিনি থামিয়ে দিলেন। একেবারে মাঠের কোণায় বোতলবন্দি করে রেখে দিয়েছিলেন মেসিকে।

এ যেন দ্য কুকুরেয়া শো। তবে মঞ্চে পর্দার সামনে ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইটে তিনি যতটাই উচ্ছ্বসিত আড়ালে রয়েছে এক অন্য আখ্যানের পর্দা। মাঠের উত্তাপ আর জয়ের উন্মাদনা ছাপিয়ে উঠে আসছে এক বাবার দীর্ঘশ্বাসের গল্প, যা যেকোনও জয়ের আনন্দকেও বিষাদে ম্লান করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

অসহায় বাবা (Cucurella Spain)

কুকুরেয়া শুধু এক ফুটবলের গল্প নন, তিনি অসীম সহনশীলতার গল্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের ঝড় উঠেছে, কিন্তু সেই ঝড়ের নিচে চাপা পড়ে আছে অটিজমে আক্রান্ত তাঁর ৬ বছরের ছেলে মাতেওকে নিয়ে লড়া এক অন্তহীন যুদ্ধ (Cucurella Spain)। ফুটবলের মঞ্চে যার সামনে অসহায় হয়ে পরে প্রতিপক্ষ। সেই তিনিই মাঠের গণ্ডির বাইরে এক অসহায় বাবা। কারণ গ্যালারির তীব্র চিৎকার আর আলোর ঝলকানি সহ্য করার মতো ক্ষমতা নেই তাঁর নিজের সন্তানের।

ছেলের লড়াই (Cucurella Spain)

মাতেওর কথা উঠলেই পেশাদার কুকুরেয়া যেন হারিয়ে যায়। ডিফেন্সে যে অত্যন্দ্র প্রহরী। ছেলের বিষয় উঠলেই তাঁর সেই কাঠিন্যে ভরা মুখোশটা যেন ধসে পড়ে। তিনি বুঝেছিলেন, মাতেওর জগতটা সাধারণ পাঁচটা বাচ্চার মতো নয়। প্রিয় সন্তানের মুখে কথা না ফোটার নীরবতা, সুরের ছন্দে হাত নাড়ানোর সেই অদ্ভুত একাকীত্ব, সবকিছুর মাঝে দাঁড়িয়ে কুকুরেয়া ডিফেন্স করছেন। ছেলের জন্য সঠিক ডাক্তার, স্কুল আর শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি যে স্থিরতা অর্জন করেছেন, সেই স্থিরতার জন্যই তিনি মেসি কিংবা হাল্যান্ডদের সামনে চিনের প্রাচীরের মত দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু এই সাহসের পেছনে লুকিয়ে থাকা কান্না কি কেউ দেখতে বা শুনতে পায়?

কুকুরেয়ার অবসর (Cucurella Spain)

শোনা যাচ্ছে, বিশ্বকাপ জেতার পরই অবসর নিতে পারেন এই ২৭ বছর বয়সি ডিফেন্ডার। ইউরো ২০২৪-এর পর বিশ্বকাপ জয়, মাঠের লড়াই ২৭ বছর বয়সেই জিতে গেছেন। আর কিছু পাওয়ার নেই। ফুটবল জীবনের চূড়ান্ত শিখরে দাঁড়িয়ে তিনি। তাঁকে নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। কিন্তু তিনি আলোতে নয় ছেলের সঙ্গে অন্ধকার জীবনের মুখোমুখি হতে চান। যেখানে ট্রফির চেয়েও জরুরি মাতেওর সুস্থ থাকা।

ট্যাটুর গল্প (Cucurella Spain)

কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু শরীরে আঁকার প্রতিজ্ঞাটি এখন সময়ের দাবি মাত্র। কোচ মশাই রসিকতা করে বলেছেন, ট্যাটুটি যেন এমন জায়গায় করা হয় যা খুব একটা চোখে না পড়ে। কিন্তু কুকুরেয়ার জীবনের প্রকৃত ট্যাটুটি তো অনেক আগেই অদৃশ্য কালিতে হৃদয়ে খোদাই হয়ে গেছে সেটি মাতেওর প্রতি তাঁর অসীম ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার।

আরও পড়ুন: অবসর সমালোচকদের রোহিতের নয়, লর্ডসে স্বমহিমায় হিটম্যান

ফুটবল মাঠের জয় হয়তো সাময়িক, কিন্তু কুকুরেয়া যে লড়াই লড়ছেন, তার কোনও ফাইনাল নেই। প্রতিটি দিনই এক নতুন ম্যাচ, যেখানে প্রতিপক্ষ অটিজম, আর জয়ী হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট ট্রফি নেই। বিশ্বকাপ জিতে হয়তো তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেবেন, কিন্তু সেই 'বাবা' নামের দায়বদ্ধতার লড়াইটা তাঁকে আজীবন লড়ে যেতে হবে। মাঠের সেই ঝাঁকরা চুলের যোদ্ধা, যিনি কিনা বিশ্বসেরাদের পকেটে পুরে ফেলেছিলেন, তিনিই যখন ঘরের কোণে মাতেওর নিষ্পাপ চোখের দিকে তাকান, তখন সেই জয়ের তৃপ্তি আর অবশিষ্ট থাকে কি? হয়তো না। সেই মুহূর্তগুলো তো শুধুই এক নিঃশব্দ বিষাদের দলিল।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: KTV Bangla