Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Hooghly: সরকারি অনুদান অনিশ্চিত, অর্ধেকে নেমেছে প্রতিমার বায়না! চরম সংকটে মৃৎশিল্পীরা

Hooghly: সরকারি অনুদান অনিশ্চিত, অর্ধেকে নেমেছে প্রতিমার বায়না! চরম সংকটে মৃৎশিল্পীরা

KTV Bangla 2 weeks ago

Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha

কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শারদোৎসব আর বেশি দূরে নয়। সাধারণত এই সময় থেকেই হুগলির ঐতিহ্যবাহী কুমোরপাড়াগুলিতে ব্যস্ততার চিত্র দেখা যায় (Hooghly)। মাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ আর শিল্পীর নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে প্রাণ পেতে শুরু করে দেবী দুর্গার প্রতিমা।

কিন্তু এ বছর সেই পরিচিত ব্যস্ততার পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক সংকটের ছবি।

মৃৎশিল্পীদের দাবি, দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও ঘোষণা না হওয়ায় অধিকাংশ পূজা কমিটি প্রতিমার বায়না দিতে দেরি করছে। ফলে বহু কারখানায় কাজ কার্যত থমকে রয়েছে।

অর্ধেকে নেমেছে প্রতিমার বরাত (Hooghly)

শিল্পীদের কথায়, অন্যান্য বছর যেখানে একটি কারখানায় গড়ে ১০০টিরও বেশি প্রতিমা তৈরির বরাত মিলত, সেখানে এ বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৪০টিতে। অর্থাৎ প্রতিমার অর্ডার কমেছে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি। শুধু বরাত কমেনি, প্রতিমার দাম নিয়েও চলছে ব্যাপক দরদাম। পূজা কমিটিগুলির একাংশ বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে আগের তুলনায় অনেক কম দামে প্রতিমা কিনতে চাইছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও শিল্পীরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

বাড়ছে কাঁচামালের দাম, বেড়েছে উৎপাদন ব্যয় (Hooghly)

মৃৎশিল্পীদের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে কাঁচামালের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত বাঁশ, কাঠ, প্লাই, খড়, মাটি এবং বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জার সামগ্রীর দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। ফলে প্রতিমা তৈরির মোট খরচ প্রায় দ্বিগুণ হলেও সেই অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ পূজা কমিটিগুলির অনেকেই কম বাজেটের কথা বলে আগের দামের কাছাকাছিই প্রতিমা কিনতে চাইছেন।

অনুদান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পূজা কমিটিগুলিও

বিগত বছরগুলিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা কমিটিগুলিকে ধাপে ধাপে আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেই অনুদানের ওপর নির্ভর করেই অনেক পূজা কমিটি বাজেট পরিকল্পনা করত। বর্তমানে অনুদান সংক্রান্ত স্পষ্ট ঘোষণা না হওয়ায় বহু পূজা কমিটি এখনও চূড়ান্ত বাজেট নির্ধারণ করতে পারেনি। ফলে প্রতিমার বায়না দেওয়া, সাজসজ্জা ও অন্যান্য খরচের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

"এবার পুরোপুরি লোকসানের মুখে" (Hooghly)

হুগলির কানাগরের মৃৎশিল্পী বটুরাম দাস বলেন, এ বছর প্রতিমা তৈরিতে কার্যত লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, সরকারি অনুদান পাওয়ার আশায় অনেক পূজা কমিটি অপেক্ষা করছিল। সেই কারণে বরাত যেমন কমেছে, তেমনি প্রতিমার দাম নিয়েও চলছে টানাপোড়েন। তিনি জানান, তাঁদের তৈরি প্রতিমা শুধু হুগলির বিভিন্ন এলাকায় নয়, কলকাতা, আসানসোল এমনকি রাজ্যের বাইরেও পাঠানো হয়। কিন্তু এ বছর খরচ বাড়লেও প্রতিমার দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিল্পীরা।

৩০ হাজার টাকার প্রতিমার দাম চাওয়া হচ্ছে ২০-২২ হাজার

হুগলির রায়বাজারের মৃৎশিল্পী গোপাল পালের বক্তব্যও একই রকম উদ্বেগের। তাঁর অভিযোগ, যে প্রতিমার ন্যায্য মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা হওয়া উচিত, সেই প্রতিমার জন্য অনেক পূজা কমিটি মাত্র ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা দিতে চাইছে। তিনি বলেন, "কাঁচামালের দাম অনেক বেড়েছে। মাটি সংগ্রহ করতেও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। প্লাই, বাঁশ, কাঠ, রং, সাজসজ্জা সবকিছুর দাম বেড়েছে। অথচ প্রতিমার দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে শিল্পীরা বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।"

ঐতিহ্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ (Hooghly)

হুগলির মৃৎশিল্প বহু দশকের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার শিল্পী, শ্রমিক, পরিবহণ কর্মী ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা নির্ভর করে এই শিল্পের ওপর। বরাত কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে শুধু মৃৎশিল্পীরাই নন, গোটা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবিকাই আজ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

TMC Bank Account: 'ইডি ও কালীঘাট তৃণমূল, দু'পক্ষের বক্তব্যই শুনবে আদালত', সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি মিলল না কালীঘাট তৃণমূলের

সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শিল্পী ও উদ্যোক্তারা

বর্তমানে মৃৎশিল্পী এবং পূজা উদ্যোক্তা উভয় পক্ষই সরকারি অনুদান সংক্রান্ত ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁদের আশা, দ্রুত কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে পূজা কমিটিগুলির আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে, প্রতিমার বরাতও বাড়বে এবং মৃৎশিল্পীদের মুখে আবারও হাসি ফিরবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: KTV Bangla