Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Jobs: ১৭.১ কোটি কর্মসংস্থানের দাবি, বাস্তবে মিলছে সেই চাকরি?

Jobs: ১৭.১ কোটি কর্মসংস্থানের দাবি, বাস্তবে মিলছে সেই চাকরি?

KTV Bangla 2 weeks ago

Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha

কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: ভারতে কর্মসংস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। বিরোধী ও শাসক উভয় পক্ষই কর্মসংস্থানকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে (Jobs)। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতামত, অভিযোগ কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিসংখ্যান।

কারণ অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চিত্র বোঝার জন্য আবেগ নয়, তথ্যই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক দশকে ভারতের শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এক দশকে কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি (Jobs)

ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ১৭.১ কোটি অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, এর আগের এক দশকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সংখ্যা ছিল মাত্র প্রায় ২.৯ কোটি। এই তুলনা থেকে স্পষ্ট যে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার শুধু আগের তুলনায় বেড়েছে তা নয়, বরং তা নতুন মাত্রা অর্জন করেছে। উৎপাদন, পরিষেবা, নির্মাণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং বিভিন্ন নতুন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মত।

বেকারত্বের হারেও ইতিবাচক প্রবণতা (Jobs)

বিশ্ব অর্থনীতির নানা অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং কোভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতের শ্রমবাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে গড় বেকারত্বের হার প্রায় ৪.৮ শতাংশ। ভারতে বেকারত্বের হার প্রায় ৩.১ শতাংশ। এছাড়াও শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থানের হারও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান নিয়ে যে নেতিবাচক রাজনৈতিক বয়ান তৈরি হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পরিকল্পিত অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রভাব (Jobs)

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিবর্তন হঠাৎ করে ঘটেনি। বরং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কার এবং একাধিক কর্মমুখী সরকারি প্রকল্পের সম্মিলিত প্রভাব এর পেছনে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে চালু হওয়া একাধিক কর্মসূচি কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে সরকার দাবি করে।উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে, স্কিল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা, (PLI) Scheme, PMEGP, বিশ্বকর্মা যোজনা, গতি শক্তি ও বৃহৎ পরিকাঠামো বিনিয়োগ, এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো।

উদ্যোক্তা সংস্কৃতির প্রসার (Jobs)

ভারতে গত এক দশকে স্টার্টআপ সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য বিস্তার ঘটেছে। প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, ডিজিটাল পরিষেবা, ই-কমার্স, ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। মুদ্রা ঋণ প্রকল্প এবং স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার মতো উদ্যোগ বহু তরুণকে চাকরি খোঁজার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

পরিকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান (Jobs)

গত কয়েক বছরে সড়ক, রেল, বিমানবন্দর, বন্দর, মেট্রো, শিল্প করিডর এবং লজিস্টিক্স খাতে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির ফলে, নির্মাণ শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। স্টিল, সিমেন্ট, যন্ত্রাংশ ও পরিবহন শিল্পে উৎপাদন বেড়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিতে এই ধরনের বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়।

দক্ষতা উন্নয়নেই ভবিষ্যতের প্রস্তুতি (Jobs)

বর্তমান বিশ্বে শুধুমাত্র চাকরি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্কিল ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল দক্ষতা, শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকর্মা যোজনার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও ক্ষুদ্র শিল্পীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর লক্ষ্য ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ

'বিকশিত ভারত ২০৪৭' কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয় এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সামাজিক সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর জাতীয় উন্নয়ন-পরিকল্পনার রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: Agnimitra Paul: ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় ইট-বালি রাখলেই জরিমানা! কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

সরকারের মতে, গত এক দশকের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কর্মসংস্থান, উৎপাদন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির পূর্ণ মূল্যায়নের জন্য সরকারি পরিসংখ্যানের পাশাপাশি স্বাধীন গবেষণা, শ্রমবাজারের গুণগত মান, কর্মসংস্থানের ধরন এবং আয়ের প্রবণতাকেও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: KTV Bangla