Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বুড়ো হারের দুরন্ত ম্যাজিক। ৪০ বছর বয়সি গোলকিপারের আসল নাম 'ভোজিনহা' নয়ই (Vozinha)
স্পেনকে আটকে নজির কেপ ভার্দের (Vozinha)
আপনার কি এমন কিছু মনে হচ্ছে যে এই কাজ আপনার দ্বারা সম্ভব নয়?
বা এই কাজ করা সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বা বয়সের কথা ভেবে পিছিয়ে আসছেন? তাহলে বিশ্বকাপে স্পেন বনাম কেপ ভার্দের ম্যাচটা আরেকবার দেখুন। শুরুতে যা অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল বা যা এই ম্যাচের অন্তিম পরিণতি মনে হচ্ছিল সেই সব কিছু মিথ্যে প্রমাণ করে এক নয়া নজির গড়লেন কেপ ভার্দের 'বয়স্ক' গোলকিপার (Vozinha)।
বঙ্গে ৩৪ বছরের শাসন কালের অবসান মানুষ দেখেছে, যা একসময় বঙ্গ রাজনীতিতে অসম্ভবের আরেক নাম ছিল। আবার তাঁদের ক্ষমতার অবসান যাঁদের হাত ধরে তাঁদেরও ক্ষমতার অবসান ঘটেছে এবং বঙ্গে গৈরিকিকরণ হয়েছে। এই গোটা বিষয়টাই হয়েছে আর সেটা হয়েছে সাধারণ মানুষের হাত ধরেই। সুতরাং কোনও কিছুই প্রায় ধ্রুবক নয়, মানুষ চাইলে করতে পারে না এমন কিছু নেই। ক্রীড়া বিশ্বও এর বাইরে নয়। এমন অনেক অঘটন থাকে আসলে সেটাই স্বাভাবিক, আমরা কল্পনা করতে পারি না বলে অঘটন শব্দের আশ্রয় নিই।
ফুটবল খেলতে আসা প্রতিটা প্লেয়ারের বিশ্বকাপ অভিষেক নিয়ে হাজারো স্বপ্ন থাকে। কারোর পূরণ হয় আবার কারোর থেকে যায় অধরা। আজকে কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা হয়ত কাপ পাওয়ার আগে সব অর্জন করে নেওয়া একজন প্লেয়ার। তিনি এবং তাঁর দেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে আটকে দিয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার দেশ স্পেনকে। স্প্যানিশ তরুণ তারকাদের গতি বলা যায় তাঁর হাতের দস্তনায় বন্দি হয়েছে। ম্যাচ শেষে তাঁর চোখের জল সব পাওয়া না পাওয়ার গল্প বলে দেয়। রূপকথার সৃষ্টি বোধহয় এমন ভাবেই হয়ে আসছে যুগে যুগে (Vozinha)।
ম্যাচ শেষ হলে তিনি নিজেকে আর সামলাতে পারেননি আর সামলাবেনই বা কেন? ৪০ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপ অভিষেকে নিজেকে প্রমাণ করেছেন আর শুধু প্রমাণ কেন রীতিমতো বিশ্ব ফুটবলের প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছেন। অথচ এই গোলকিপারের আসল নাম 'ভোজিনহা' নয়ই। মা-বাবাকে ছাড়া বড় হওয়া গোলকিপার এদিন বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন।
Bhagwant Akal Takht: বিতর্কিত ভিডিয়ো: ভগবন্ত মানকে 'গুরু-বিরোধী' ঘোষণা অকাল তখতের
এবার এই ম্যাচের নায়ক সম্পর্কে এমন একটা কথা বলবো যা শুনে অবাক হতে হবে। ১৯৮৬ সালে কেপ ভার্দেতে জন্ম জোসিমার জোসে ইভোরা দিয়াজের। যাকে আজ বিশ্ব চিনল ভোজিনহা নামে। বর্তমানে খেলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব চাভেসে। কেপ ভার্দের হয়ে তিনি খেলেছেন ৯১টি ম্যাচ (Vozinha)।
২০১২ সালে সই করেন অ্যাঙ্গোলার ক্লাব প্রোগ্রেসোতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে মহা সমস্যা, বলা যায় রীতিমত নাম বিভ্রাট। সেখানে 'জোসিমার' নামের আরেক গোলকিপার ছিলেন। তাই জার্সিতে ওই নাম ব্যবহার করা যাবে না। অতএব ব্যবহার করতে হল ডাকনাম 'ভোজিনহা।' ইংরেজিতে এই শব্দের অর্থ 'গলার স্বর'। যে নামটা রেখেছিলেন তাঁর দাদু-ঠাকুমা।
নামটা সেই কারণে তাঁর কাছে বিশেষ আর আজ থেকে বিশ্ব ফুটবলেও সোনালী হরফে লেখা থাকল এই বিশেষ নামটা। আসলে ছোটবেলায় মা-বাবার সাহচর্য পাননি তিনি। বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীতে। মা কাজের জন্য বাইরে থাকতেন। তাই দাদু-ঠাকুমাই তাঁকে বড় করে তুলেছেন। সেই নাম আজ বিশ্বের সব ফুটবলপ্রেমীর মুখে মুখে, খবরের শিরোনামে, পেজের হেডলাইনে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে সেভ করেছেন ৭টি। যে তরুণদের নিয়ে স্পেনের গর্ব সেটা তিনি একা হাতে চূর্ণ করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক গোলকিপার হিসেবে ক্লিনশিট রাখার নজির এখন তাঁর নামে। ম্যাচে কখনও স্পেনের ডিফেন্ডার লাপোর্তের হেড আবার ওয়ারজাবালের জোরালো শট, সব আটক হয়েছে তাঁর কাছে। আজকের ম্যাচটা আসলে ছিল স্পেন বনাম ভোজিনহা (Vozinha)।

