Gold Rate Today: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে সোনা ও রুপোর দামে ক্রমাগত দোলাচল দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারীদের পকেটে। বিশ্ববাজারে বন্ডের আয় বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে।
কলকাতায় সোনার দর
কলকাতার বাজারে আজ সোনার দরে বিশেষ পরিবর্তন দেখা গেছে। শহর কলকাতায় আজ ২৪ ক্যারেট অর্থাৎ খাঁটি সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১৪৫৭৬ টাকা। গয়নার সোনা বা ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনার দর আজ প্রতি গ্রামে ১০৯৩২ টাকা।দিল্লি, মুম্বই সহ দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহরে সোনার দর
দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে যে দামের সামান্য তারতম্য রয়েছে। দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১৪ হাজার ৫৯১ টাকা, ২২ ক্যারেটের দাম ১৩,৩৭৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দর ১০,৯৪৭ টাকা। বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে ২৪ ক্যারেট সোনা বিকোচ্ছে প্রতি গ্রামে ১৪,৫৭৬ টাকায়, ২২ ক্যারেট ১৩,৩৬১ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেট ১০,৯৩২ টাকায়। দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই শহরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১৪,৫৭৬ টাকা, ২২ ক্যারেটের দাম ১৩,৩৬১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দর ১১,১৭৬ টাকা।বায়দা বাজার ও ভারতের জাতীয় বাজারের বর্তমান চিত্র
বায়দা বাজার বা মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে দেখা যাচ্ছে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এখানে সোনার আগস্ট ফিউচার্স সামান্য ০.০৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১,৪১,৫৯৯ টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে রুপোর ক্ষেত্রে পতন লক্ষ্য করা গেছে। রুপোর সেপ্টেম্বর ফিউচার্স প্রায় ১.১৩ শতাংশ কমে বর্তমানে ২১৭৪৮৮ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইন্ডিয়া বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সংক্ষেপে IBJA এর প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবারে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দর ছিল ১,৪২,৮৬০ টাকা। এই দামটি সোমবার বাজার খোলার সময়ের ১,৪৪,৫৩২ টাকার তুলনায় কিছুটা কম। অর্থাৎ পুরো সপ্তাহ জুড়ে সোনার দর সামান্য নিম্নমুখী হলেও বাজারের সার্বিক গতিপথ অস্থিরই থেকে গেছে।সোনা কি রেকর্ড উঁচুতে নাকি তলানিতে
বর্তমান বাজারের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সোনার দাম এখন কোনোভাবেই সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেই। আন্তর্জাতিক স্তরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা মুদ্রাস্ফীতি সোনার দামকে ঐতিহাসিক উচ্চতার কাছাকাছি ধরে রেখেছে। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড বা বন্ডের ফলন বাড়ার কারণে এবং ডলার শক্ত অবস্থান নেওয়ায় সোনার দামে সাময়িক কিছু সংশোধন বা পতন দেখা গিয়েছে, তবুও সার্বিকভাবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর বেশ উঁচুর দিকেই অবস্থান করছে।ভারতে সোনার দাম নির্ধারণের মূল কারণগুলো
ভারতে সোনার দর কেবল একটি একক বিষয়ের উপর নির্ভর করে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বেশ কিছু অর্থনৈতিক সমীকরণের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। বিশ্ববাজারে আউন্স প্রতি সোনার আন্তর্জাতিক দর এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় হার এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। ডলারের মান শক্তিশালী হলে ভারতে আমদানি করা সোনা আরও মহার্ঘ হয়ে ওঠে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক সংঘাত ও যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সোনাকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলে। আবার ভারতে বিয়ের মরশুম বা ধনতেরাস ও দেওয়ালির মতো বড় উৎসবগুলোর সময় সাধারণ মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বাজারে গয়নার চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। ফলে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদাও ভারতের বাজারে সোনার চূড়ান্ত দর নির্ধারণ করে থাকে।
