Saturday, 24 Aug, 9.13 pm মঙ্গলকোট.কম

হোম
কলকাতা প্রেসক্লাবে ইলেকশন ওয়াচের মিডিয়া নিয়ে সেমিনার

শান্তনু দত্ত

আজ ২৪ শে অগাস্ট, সকালে, কলকাতার প্রেসক্লাবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশান ওয়াচ ও এডিআর। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মুম্বাই ও কলকাতা উচ্চ আদালতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তথা পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশান ওয়াচের প্রেসিডেন্ট, মাননীয় শ্রী চিত্তোতোষ মুখোপাধ্যায়। সংস্থার পক্ষে স্বাগত ভাষণ দেন ডঃ উজ্জয়িনী হালিম, সঞ্চালিকা পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশান ওয়াচ। বহু বিশিষ্ট সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই মনোজ্ঞ আলোচনা সভায় যোগ দেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা বর্তমান কলকাতা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট শ্রী স্নেহাশিস সুর মূল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশান ওয়াচের পক্ষে সিকিম উচ্চ আদালতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মাননীয় শ্রী মলয় সেনগুপ্ত, অধ্যাপক শ্রী সত্যব্রত চৌধুরী, শ্রী মানবেন্দ্র মণ্ডল, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক শ্রী সুদীপ্ত সেনগুপ্ত, শ্রী রজত রায়, অধ্যাপক শ্রী বিশ্বনাথ চক্রবর্তী, শ্রী পঙ্কজ কুমার দত্ত, শ্রী কল্যাণ ব্যানার্জী । উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ষ্টেটসম্যান, দৈনিক বিশ্বামিত্র, গনশক্তি, রাজস্থান পত্রিকা, হিন্দুস্থান সমাচার, ই-নিউজরুম, ফোর্থ পিলারস, এপিটিভি, বাংলার খবরাখবর, সময় এখন শতক, হাই নিউজ, বাংলার রেনেসাঁ প্রভৃতি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিগণ । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের পক্ষে শীস, ইমসে, আই আই এম সি, দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি, বিবেক পথে, খিদিরপুর স্বরাজ, এফ ও ভি ও ডব্লিও বি প্রভৃতি মংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

বক্তাদের বক্তব্য থেকে সংবাদমাধ্যমের বর্তমান সমস্যার কথা ধরা পরে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ অন্য স্তম্ভ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, কাজেই, টি আর পি ও ব্যনিজ্যিক স্বার্থের বেড়াজাল থেকে সংবাদ মাধ্যম, তা সংবাদপত্র, ডিজিটাল, ইলেকট্রনিক বা সোশ্যাল মিডিয়া যাই হোক না কেন, তার বেড়িয়ে আসা, অনেকটাই ব্যক্তি নির্ভর ও সীমিত। কাজেই দরকার বিকল্প মাধ্যমের। এই সূত্রে বার বার সোশ্যাল মিডিয়ার পোর্টালের কথা উঠে আসে ও সর্বক্ষেত্রেই নৈতিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা ওঠে।
দেশের তথা রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের পেইড নিউজ নিয়ে বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট নিয়ে ভূমিকার কথা আলোচনায় উঠে আসে, ওঠে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ। একই সাথে এই প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে দিতে গেলে যে আইনের পরিবর্তন দরকার তা নিয়েও আলোচনা হয়। নির্বাচন কমিশনকে আরো স্বাধীনতা দেওয়া যাতে তারা সরকারের কাজকেও সংবিধানের আওতাতেই দায়বদ্ধ করতে পারে, নির্বাচন কমিশনের সাথে সংবাদমাধ্যমের সম্পৃক্ততা নিয়মিত করা, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও তাদের আইনী সাহায্যের সুপারিশও উঠে আসে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ হিসেবে ।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জেলাস্তরের সাংবাদিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, গণতন্ত্রকে রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার উপর জোর দেওয়া, সমাজে নিয়মিত মতামত আদানপ্রদানের স্বাধীন পরিসরকে সংরক্ষণ করা, আরো গবেষণাধর্মী কাজ নিয়মিত ভাবে করা, এই সুপারিশও উঠে আসে আলোচনার থেকে।
দেশে সংবাদমাধ্যমের মানের অবনতি, সত্‍ সাংবাদিকতার বদলে চাটুকারিতার সাংবাদিকতার রমরমাকে সবাই বিশেষ আশংকার কারন বলে মনে করেন। গণতন্ত্রের অন্যতম স্বাস্থ্য সূচক হল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সেটি প্রায় সব বক্তাই স্মরণ করিয়ে দেন।
সভাপতি তাঁর ভাষণে কঠিন সময়ের মধ্যেও যারা নৈতিকতা বর্জন না করে সাংবাদিকতা করছেন তাদের প্রশংসা করেন, তিনি বলেন বিচার ব্যবস্থাও ত্রুটিমুক্ত নয় তবে এই গণতান্ত্রিক আধারের উপর আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত্‍ ও তাকে আরো মজবুত করা উচিত্‍।
ডঃ উজ্জয়িনী হালিম কিছু প্রশ্নের উত্তরে জানান পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশান ওয়াচ ও এডিআর ফেক ও পেইড নিউজের নিন্দা করে ও ভবিষ্যতে দেশে আরো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা আশা করে। এক দেশ এক নির্বাচন, ইলেকটোরাল বন্ড বা তথ্যের অধিকার সংশোধন বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধ অবস্থানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সব বক্তাই একমত হন পেশী বা অর্থ শক্তির প্রভাব মুক্ত নির্বাচন একান্ত দরকার আর সেক্ষেত্রে নতুন সংবাদমাদ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, এর জন্য নানা সংস্কারের প্রয়োজনের কথাও বিস্তারিত আলোচিত হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে আরো এই ধরনের আলোচনাসভা গঠন ও প্রশিক্ষণের উপর জোর। দেন শ্রী স্নেহাশিস সুর, পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশান ওয়াচের সদস্য, সাংবাদিক তথা নাগরিক সংগঠনের সদস্যরা সকলেই একমত হন।
আগামীতে আরো দায়িত্ব শীল সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার অংগীকারের মাধ্যমে সভার কাজ শেষ হয়।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: Mongalkote.com
Top