চিত্র প্রেমীদের মন জয় করে নিল চিত্রন ২০২৬
দীপঙ্কর সমাদ্দার: সমগ্র চিত্র প্রেমী দের মনে আনন্দের জোয়ার এনে দিল সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্রের আয়োজনে কলকাতার গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায় অভিনব আকর্ষণীয় চিত্র প্রদর্শনী চিত্রন ২০২৬। সুসজ্জিত প্রতিটি সৃজনশীল ছবিতে পরিপূর্ণ গ্যালারি।
১৭ ই সেপ্টেম্বর থেকে একুশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে এই চিত্র প্রদর্শনী।
সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্রের ৩৪ বছরের শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার ধারাবাহিকতায় চিত্রন ২০২৬ এর আয়োজন। সব থেকে যেটা নজর কেড়েছে সুসজ্জিত ২৫০-রও বেশি শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা, শৈলী ও শিল্পের ভাষা একসঙ্গে উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৬০-রও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকাও এই আয়োজনে উপস্থিত রয়েছেন। লক্ষ্য শুধু শিল্পকর্ম প্রদর্শন নয়, শিল্পীদের তাঁদের কাজ বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করা। এই চিত্র প্রদর্শনী ঘিরে আরো ভালো ভালো কিছু হস্তশিল্প থাকলে আরো ভালো লাগতো। বর্তমানে হস্তশিল্প ভীষণ পরিমাণে মানুষের গৃহসজ্জার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই প্রদর্শনী উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পণ্ডিত ব্রজবিহারী চক্রবর্ত্তী এবং সভাপতি ও সিইও শ্রী অরিজিৎ চক্রবর্ত্তী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরাগ রায়, ডিন, ফ্যাকাল্টি অফ ভিজ্যুয়াল আর্টস, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়; কঙ্কনা মিত্র (রায় চৌধুরী), ডিন, ফ্যাকাল্টি অফ ফাইন আর্টস, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়; ড. স্বপ্না বিশ্বাস, প্রফেসর, পেইন্টিং, গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট, কলকাতা; বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়; লিপিকা বালা চক্রবর্তী, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, টেক্সটাইল ডিজাইন, গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট, কলকাতা; অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়; চলচ্চিত্র নির্মাতা অনিলাভ চট্টোপাধ্যায় এবং বিশিষ্ট থিয়েটার ও চলচ্চিত্র অভিনেতা দেবাশিস মণ্ডল।
প্যাস্টেল, পেন্সিল, জলরং এবং এক্রিলিকে বিভিন্ন ছবিতে শিল্পীদের মনের আঙ্গিক ফুটে উঠেছে। যা দর্শকবৃন্দদের মনে দাগ কেটেছে। তবে দু-চারটি যা ভাস্কর্য দেখা গেল সেগুলো যথেষ্ট নজর কেড়েছে ।দর্শক বৃন্দদের মধ্যে অনেকেই জানালেন আমরা এত লক্ষ টাকা খরচ করে সুন্দর সুন্দর দেয়াল তৈরি করি অথচ সেখানে একটা ক্যালেন্ডার কখনই ভালো লাগেনা তাই এখন থেকে আমরা এই ধরনের প্রদর্শনী থেকে ছবি কিনে দেয়ালের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করব। ইতিমধ্যেই কলকাতা সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ছবি কেনার একটা প্রবণতা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মানুষ অন্য উপহার সামগ্রী বাদ দিয়ে আঁকা ছবি উপহার দিচ্ছে।প্রদর্শনীটি শুধু শিল্পকর্ম দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সুরভারতী শিল্পীদের ও আগ্রহী ক্রেতা ও শিল্পীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্ভাব্য লেনদেনের সুযোগ তৈরি করতে সহযোগিতা করছে। এর ফলে শিল্পীদের জন্য তাঁদের কাজ প্রদর্শনের পাশাপাশি নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছনো এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়া এবং শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের আরও গভীর সংযোগ তৈরি করাই চিত্রন ২০২৬ এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এক কথায় বলতে গেলে সুরো ভারতীর সংগীতকলা কেন্দ্রের চিত্র প্রদর্শনী সর্বাত্মক সুন্দর ও সার্থক।

