দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে স্বস্তির বার্তা বিশ্ববাসীর জন্য। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সমঝোতাপত্রে অনুমোদন দিয়েছেন।
এই চুক্তির জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীও পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে জানা গিয়েছিল, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বুধবার সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চুক্তিতে সই করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। ফলে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক উত্তেজনার ইতি টানা সম্ভব হয়েছে।
শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছিল গত রবিবার। তখন চুক্তির খসড়া নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। সেই স্বাক্ষরের পর থেকেই কার্যত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এবার দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে চুক্তি পূর্ণতা পেল।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, জি-৭ সম্মেলনের কর্মসূচি শেষ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নৈশভোজের সময় সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই মুহূর্তের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তেহরান থেকেও জানানো হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হরমুজ প্রণালীর পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া। গত কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ফলে জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
এর ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে দেখা যেতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাও ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
যদিও জেনেভায় নির্ধারিত বৈঠক এখনও পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। দুই দেশের আলোচক প্রতিনিধিদল সেখানে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা বহাল রেখেছে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, শুক্রবারের সম্ভাব্য বৈঠক আর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য নয়। বরং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর ইরান-আমেরিকার এই শান্তিচুক্তি শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল না, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল।

