Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
৬০ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়!

৬০ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়!

বিধানসভার অন্দরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ চড়ল। বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর পাশে রয়েছেন ৬০ জন বিধায়ক। সেই সমর্থনের চিঠি নিয়েই বুধবার বিধানসভায় পৌঁছন তিনি। একে একে সেখানে হাজির হন আরও কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিরোধী শিবিরে নেতৃত্বের লড়াই কি এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে?

বিধানসভা চত্বরে দেখা যায় ঋতব্রতের পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন অরূপ রায়, শিউলি সাহা, আখুজ্জামান এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাবিনা জানান, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়েই একটি বৈঠক হবে। বৈঠক কে ডেকেছেন, সেই প্রশ্নে তাঁর জবাব ছিল, ''আমরা সবাই মিলে।''

গত কয়েক দিন ধরে বিধানসভার তথাকথিত 'সই-কাণ্ড' ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলনেতা পদে এখনও কোনও নাম চূড়ান্ত করেননি স্পিকার রথীন্দ্র বসু। সেই পরিস্থিতিতেই ঋতব্রতের ৫৯ বিধায়কের সমর্থনের দাবি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

যদিও ঋতব্রত প্রকাশ্যে দলভাঙার জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, তিনি বিধানসভায় এসেছেন নিয়মিত কাজের সূত্রেই। এর আগে যে বিধানসভায় গিয়েছিলেন, সেটাও শুধুমাত্র সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে। তবে ৫০-এর বেশি বিধায়কের সমর্থনের প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।

প্রসঙ্গত, সোমবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। তাঁদের অভিযোগ, গত ৬ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। শুধুমাত্র উপস্থিতির খাতায় নেওয়া স্বাক্ষরকে পরে অন্যভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে আপত্তি জানান দুই বিধায়ক। পরে সেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়েই মূলত জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে বিধানসভা সূত্রের খবর।

৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটে জয়ী বিধায়কদের বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলনেত্রীর উপর ছেড়ে দেওয়া হয় বলে একাধিক বিধায়ক জানিয়েছিলেন। পরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

দলের তরফে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী পরিষদীয় দলের বৈঠকেই সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীদের নির্বাচন করতে হয় বলে আপত্তি ওঠে।

এরপর ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডেকে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই স্বাক্ষর ৬ মে-র কার্যবিবরণীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। আর এই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বর্তমান বিতর্ক। এখন নজর বিধানসভার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ঋতব্রতের দাবি এবং ৬০ বিধায়কের সমর্থনের প্রসঙ্গ রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi