সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য ও দাবি। এবার গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ধৃতদের অনেকেই দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
যদিও হামলার ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।
শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগে পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আকাশ গায়েন এবং জয় সেনগুপ্ত। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ধৃত আকাশ গায়েনের মা শঙ্করী গায়েন ছেলের গ্রেফতারি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ঠিক কী অভিযোগে ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে আকাশ দীর্ঘদিন তৃণমূলের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল এবং দলীয় কার্যকলাপেও অংশ নিত।
শঙ্করী গায়েনের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ছেলের কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকার কথা নয়। তিনি দাবি করেন, আকাশ স্থানীয় তৃণমূল সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও যুক্ত ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ি ফেরার পর স্বাভাবিকভাবেই মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি।
অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া জয় সেনগুপ্তকেও স্থানীয়ভাবে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে চেনেন অনেকেই। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, জয় বহু বছর ধরে তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এমনকি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তিনি দল বদল করেননি বলে দাবি পরিবারের।
জয়ের স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামী হামলার ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন। উল্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পরিস্থিতিতে এলাকায় না আসার পরামর্শই দিয়েছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন। ফলে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এরই মধ্যে অভিযুক্তদের সঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র-র ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও লাভলি মৈত্র ইতিমধ্যেই সেই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী নন।
সোনারপুর হামলা-কাণ্ড এখন শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, তা ক্রমশ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয়, ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং হামলার প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। আগামী দিনে এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

