রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলায় দ্রুত বাড়ছে আরএসএস। সংঘের দাবি, ৪ মে-র আগে যেখানে রাজ্যে ৫,১০০টি শাখা ছিল, সেখানে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজারে পৌঁছতে পারে। একইসঙ্গে শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ১০ লক্ষ যুবক-যুবতীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সংঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে শাখা চালুর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। দক্ষিণ বীরভূমে ৪ মে-র আগে যেখানে ৪২টি শাখা ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৫। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই জেলাতেই ৫০০টি শাখা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণবঙ্গের সংঘচালক সিদ্ধার্থ মণ্ডল।
তাঁর দাবি, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংঘের কার্যকলাপের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। আগে যে ভয়ের পরিবেশ ছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গিয়েছে। ফলে নতুন সদস্য এবং নিয়মিত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
কলকাতাতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি সংঘের। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত শহরে প্রায় ১৫০টি শাখা ছিল। এরপর সেই সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই প্রতিদিনের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরের একটি শাখার উদাহরণ দিয়ে সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মে মাসের শুরুতে যেখানে মাত্র চারজন উপস্থিত থাকতেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সেখানে উপস্থিতি বেড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জনে পৌঁছেছে।
আরএসএস সূত্রের দাবি, সংগঠনে যোগদানের জন্য অনলাইনেও বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রায় ২৫ লক্ষ আবেদন এসেছে বলে তাদের দাবি। আবেদনকারীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর পাশাপাশি মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদেরও উপস্থিতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত প্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায়ের বক্তব্য, বাংলার মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ বরাবরই প্রবল। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই মানসিকতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাই গ্রাম ও শহর মিলিয়ে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ যুবক-যুবতীর কাছে পৌঁছে তাদের জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সংঘের শতবর্ষ উদযাপনের আগে এই কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি চলছে।

