ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে যুক্ত হতে চলেছে নতুন প্রজন্মের এক দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ওড়িশা উপকূলে সফল পরীক্ষার মাধ্যমে 'লং রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল' (LRLACM) নিয়ে বড় সাফল্য পেল ডিআরডিও। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রকে মার্কিন 'টমাহক'-এর সমতুল্য ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র হিসেবে দেখছেন।
সোমবার ওড়িশার পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সমস্ত প্রযুক্তিগত ও পরিচালনগত লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করেছে এই অস্ত্র ব্যবস্থা।
যদিও ক্ষেপণাস্ত্রটির সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি, প্রতিরক্ষা মহলের অনুমান, এর পাল্লা ১,০০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে হতে পারে। ফলে ভারতের কৌশলগত পরিসরে উল্লেখযোগ্য বিস্তার ঘটবে এবং দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশের 'নির্ভয়' ক্রুজ মিসাইল প্রকল্পের উন্নত সংস্করণ বা উত্তরসূরি হতে পারে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যও আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এর বহুমুখী উৎক্ষেপণ ক্ষমতা। স্থলভিত্তিক লঞ্চার, যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন-তিন ক্ষেত্র থেকেই এটি নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে স্থল, সমুদ্র এবং যৌথ সামরিক অভিযানে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব অনেক বেশি।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলি আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র বদলে দিয়েছে। দূর থেকে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম 'স্ট্যান্ড-অফ' অস্ত্রের গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ। সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত সামরিক বিশ্লেষকদের।
তবে সফল পরীক্ষা সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্রটি এখনও সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। প্রতিরক্ষা সূত্রে ইঙ্গিত, আরও কয়েক দফা পরীক্ষা এবং মূল্যায়নের পর আগামী দু'বছরের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হতে পারে।
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই নতুন দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।

