নজরবন্দি ব্যুরো: মালদহের মঙ্গলবাড়িতে (Mangalbari) গভীর রাতের পুলিশি অভিযানে সামনে এল কোটি টাকার নগদ, বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ এবং সোনার মজুত। রাতভর চলা তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা, প্রায় ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ, ২০ গ্রাম সোনা ও একটি ল্যাপটপ।
ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রবিবার রাতে মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন টিম যৌথভাবে মঙ্গলবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। একটি ঘরে ঢুকেই তদন্তকারীরা বিপুল পরিমাণ নগদের সন্ধান পান। টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, রাতেই টাকা গোনার যন্ত্র এনে গণনা শুরু হয়। ভোর প্রায় ৪টে পর্যন্ত চলে সেই কাজ। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া নগদের অঙ্ক দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকেই ২০ গ্রাম সোনা এবং একটি ল্যাপটপও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযানের পর গ্রেফতার করা হয় পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হালদার নামে তিন অভিযুক্তকে। তাঁদের সকলের বাড়িই মালদহ থানা এলাকার মধ্যে।
একই রাতে মালদহের খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া সিরাপগুলির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। অভিযোগ, ওই সিরাপগুলিতে নিষিদ্ধ মাদকজাত উপাদান ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলির অবৈধ কারবার চলছিল।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গত মাসে দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রিপাড়া এলাকায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই মামলায় গ্রেফতার হওয়া চার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদহের এই বড় চক্রের সন্ধান মেলে। রবিবার রাতে তাঁদের নিয়ে এসে অভিযান চালানো হয়, যার জেরেই মঙ্গলবাড়ির এই বিপুল উদ্ধার।
বুনিয়াদপুরের এসডিপিও শুভতোষ সরকার বলেন, তিন জনকে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, সোনা এবং বিপুল পরিমাণ সিরাপ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
গভীর রাতে এত বড় পুলিশি অভিযানের জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশ জানান, ওই জায়গায় কী ধরনের কাজ চলত, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণা ছিল না। কেউ কেউ মনে করছেন, গুদামঘর বা গ্যারাজের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি কারবার চলছিল, যদিও বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় ছিল না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি বীরভূমে (Birbhum) অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়ি থেকেও প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত চলাকালীনই মালদহে ফের কোটি টাকার নগদ ও নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও মাদক চক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

